মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভুল নম্বরে টাকা পাঠানোর সমস্যা একটি সাধারণ বিষয়। বিশেষ করে বিকাশ ব্যবহারকারীরা এ ধরনের ভুলে প্রায়ই পড়েন। তবে, বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব। পরিস্থিতি ১: প্রাপক যদি নন-বিকাশ ব্যবহারকারী হন যদি টাকা এমন একটি নম্বরে চলে যায় যা বিকাশে রেজিস্টার করা নেই, তবে সহজেই অ্যাপের মাধ্যমে টাকা ফেরত নেওয়া যেতে পারে। এর জন্য যে ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে: > অ্যাপে গিয়ে “সেন্ড মানি” অপশনে যান। > সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পাশে “নন-বিকাশ” লেখা দেখা যাবে। > সেখানে ট্যাপ করে “Cancel” বা বাতিল করার অপশন নির্বাচন করুন। > 'হ্যাঁ' নির্বাচন করলে টাকা তাৎক্ষণিকভাবে আপনার অ্যাকাউন্টে ফিরে আসবে। এটি শুধুমাত্র তখনই প্রযোজ্য, যখন প্রাপকের নম্বর বিকাশে রেজিস্টার না করা থাকে। পরিস্থিতি ২: প্রাপক যদি সক্রিয় বিকাশ ব্যবহারকারী হন যদি টাকা ইতোমধ্যে একটি সক্রিয় বিকাশ অ্যাকাউন্টে চলে যায়, তবে সরাসরি অ্যাপ থেকে টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বিকাশ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে: > হেল্পলাইন ১৬২৪৭-এ কল করা বা নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করা। > লেনদেনের তারিখ ও সময়, প্রেরক ও প্রাপকের নম্বর, পাঠানো টাকার পরিমাণ এবং লেনদেনের স্ক্রিনশট জমা দিতে হবে। > এরপর বিকাশ কর্তৃপক্ষ প্রাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। > যদি প্রাপক টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন, তবে ভুক্তভোগী আইনি সহায়তার জন্য ব্যবস্থা নিতে পারেন। বিকাশ ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, লেনদেনের আগে প্রাপকের নম্বর যাচাই করে নেওয়া, অন্য কারো ফোন ব্যবহার না করা এবং সেন্ড মানি করার সময় প্রাপকের নাম নিশ্চিত করা। বিকাশ জানিয়েছে, ভুল নম্বরে টাকা পাঠালেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নিলে টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব।
মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন, ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট সেবার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নতুন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘অ্যামাজন লিও’ চালু করেছে। এই সেবাটি বিশ্বের দ্রুততম বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা হিসেবে পরিচিত, যা স্টারলিংকের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বলে দাবি করছে অ্যামাজন। অ্যামাজনের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে বর্তমানে ১৫০টি স্যাটেলাইট রয়েছে, যা স্টারলিংকের প্রায় ৮,০০০ স্যাটেলাইটের তুলনায় অনেক কম। তবে, অ্যামাজনের দাবি, তাদের স্যাটেলাইটগুলো নতুন ‘লিও আল্ট্রা অ্যান্টেনা’ ব্যবহারের মাধ্যমে এক গিগাবিট পার সেকেন্ড ডাউনলোড গতি দিতে সক্ষম, যা স্টারলিংকের তুলনায় পাঁচগুণ দ্রুত। স্টারলিংক বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ গ্রাহককে সেবা প্রদান করছে, তবে তারা ২০২৬ সালের মধ্যে এক গিগাবিট গতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে, অ্যামাজন লিও সেবা কিছু ব্যবসায়ী গ্রাহকদের জন্য উপলব্ধ, তবে আগামী বছরে এটি আরও বিস্তৃত পরিসরে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অ্যামাজন ভবিষ্যতে ৩,২৩৬টি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা করছে, যখন স্পেসএক্স তাদের স্টারলিংক নেটওয়ার্ক ১২,০০০ স্যাটেলাইটে উন্নীত করতে চায়। অ্যামাজনের প্রাথমিক গ্রাহকদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব শক্তি কোম্পানি ‘হান্ট এনার্জি নেটওয়ার্ক’, তারবিহীন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ‘ভানু ইনকর্পোরেটেড’, এবং এয়ারলাইন ‘জেটব্লু’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন জানিয়েছে, সেবাটি সীমিত আকারে চালু করার উদ্দেশ্য হচ্ছে নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা এবং এটি বিভিন্ন শিল্পে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা পর্যবেক্ষণ করা।
প্রাণীরা ভূমিকম্প আগাম টের পায়— এ ধারণাটি বহুদিনের প্রচলিত বিশ্বাস হলেও এখনো এর পক্ষে স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মেলেনি। তবুও নানা অভিজ্ঞতা, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা এই প্রশ্নকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছে—প্রাণীরা কি সত্যিই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগাম টের পায়? দুর্যোগের ক্ষতি এড়ানো বন্যপ্রাণীর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টিকে থাকার কৌশল। তাই তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কিছু অভিযোজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে। কিছু গবেষণা ও নানা ধরনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঘটনা থেকে ধারণা করা হয় যে প্রাণীদের একটি ‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’ আছে, যা তাদেরকে বিপদ আসার আগেই সতর্ক করে। প্রাচীন গ্রিস থেকে বর্তমান পৃথিবী: গল্পের দীর্ঘ ইতিহাস খ্রিস্টপূর্ব ৩৭৩ সালে গ্রিসে বড় ভূমিকম্পের আগে ইঁদুর, বেজি, সাপ, কাঁকড়া ও বিছা তাদের গর্ত ও বাসস্থান ছেড়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে—এমন বর্ণনা ইতিহাসে রয়েছে। শত শত বছর ধরে এমন গল্প বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়েও মাছ, পাখি, গৃহপালিত পশু থেকে শুরু করে বন্যপ্রাণীর অস্বাভাবিক নড়াচড়ার বহু গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে। তবে এসব অভিজ্ঞতা যতই বিস্ময় জাগাক, বিজ্ঞানীরা সতর্ক—আখ্যান আর প্রমাণ এক জিনিস নয়। বিজ্ঞান কী বলছে? ভূমিকম্পে দুটি তরঙ্গ তৈরি হয়—ছোট ‘পি’-ওয়েভ এবং বড় ‘এস’-ওয়েভ। বৈজ্ঞানিকভাবে বহু গবেষণা দেখায়—প্রাণীরা ভূমিকম্প ঘটার কয়েক সেকেন্ড আগে ক্ষুদ্র ‘পি’-ওয়েভ অনুভব করতে পারে। দ্রুতগতির ‘পি’-ওয়েভ তরল, কঠিন ও গ্যাস—সবকিছুর মধ্য দিয়ে যেতে পারে, যেখানে এস-ওয়েভ শুধু কঠিনের মধ্য দিয়ে যায় এবং যে ‘ধাক্কা’ মানুষ অনুভব করে তা মূলত ‘এস’-ওয়েভের প্রভাব। ছবি: সংগৃহীত খুব নগণ্য সংখ্যক মানুষও ‘পি’-ওয়েভ অনুভব করতে পারলেও বেশ কিছু প্রাণী ঘ্রাণ, স্পর্শ বা শ্রবণশক্তির মাধ্যমে এটি টের পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তাই অনেক প্রাণী ভূমিকম্পের ঠিক আগে অস্থির হয়ে ওঠে। কিন্তু এটি কয়েক সেকেন্ড আগাম সতর্কতা মাত্র—ঘণ্টা কিংবা দিন নয়। প্রথম গবেষণা শুরু করে চীনে ১৯৬৬ সালের ৮ মার্চ সকালে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প চীনের শিনতাই শহরে (বেইজিং থেকে প্রায় ২২০ মাইল দক্ষিণে) আঘাত হানে। ভোরে ঘুমন্ত মানুষের ওপর বাড়িঘর ধসে পড়ে। এ ঘটনায় প্রায় ৮ হাজার মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি আহত হয়। ১৯৪৯ সালের কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর জনবহুল এলাকায় এটিই ছিল প্রথম বড় ভূমিকম্প, তাই রাজনৈতিক নেতৃত্ব ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখে। পরদিনই বিজ্ঞানীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। ভূ-ভৌতবিদ, ভূতাত্ত্বিক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের গবেষকরা অনুসন্ধান শুরু করেন। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ ধরে গবেষকেরা মাঠপর্যায়ে সাক্ষাৎকার ও তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় ভূমিকম্পের আগাম লক্ষণ নিয়ে অসংখ্য মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণীর অস্বাভাবিক আচরণের বহু বর্ণনাও সামনে আসে। ২৩ মার্চ আরেকটি বড় কম্পনের পর চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব বায়োফিজিক্সের গবেষকেরা শিনতাইয়ে পৌঁছে প্রাণীর অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তারা প্রায় দুই মাস ধরে আশপাশের বিভিন্ন কমিউন ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেন। ১৯৬৬ সালের মে মাসে শিনতাইয়ে প্রথম প্রাণী-পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। এর আগে প্রাণীদের আচরণবিষয়ক গবেষণা মূলত ঘটনার পর মানুষের স্মৃতিনির্ভর ছিল। নতুন কেন্দ্রটি নিয়মিত ও পদ্ধতিগতভাবে প্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করে। এখানে গবেষণা ও ভূমিকম্প পূর্বাভাস দুটোই চলত। ছবি: সংগৃহীত বেইজিংয়ের গবেষণাগার থেকে পিকিনিজ কুকুর, বানর, বড় সাদা মুরগি, ইঁদুর নিয়ে আসা হয়—সব মিলিয়ে কেন্দ্রটি একটি ছোট চিড়িয়াখানার মতো হয়ে ওঠে। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে বায়োফিজিক্স, জুলজি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত হয় ‘ভূমিকম্প জীববিজ্ঞান গবেষণা দল’। তারা শিনতাই অঞ্চলে আরও কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করে বিভিন্ন প্রাণীর ওপর গবেষণা চালান। এরপর চীনা বিজ্ঞানীরা পরে ব্যাপক পরিমাণে পরিসংখ্যান, চার্ট, ডায়াগ্রাম, শতকরা হিসাব ইত্যাদি ব্যবহার করে তথ্যকে পরিমাণগত রূপ দেন। ক্লাস্টার বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রাণীর আচরণ নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়। চীনা বিজ্ঞানীদের মতে, পতঙ্গ ও কীটপতঙ্গ খুবই কম সংখ্যক ক্ষেত্রে আচরণগত সংকেত দেখায়। মাছ তুলনামূলক বেশি প্রতিক্রিয়া দেখালেও তাদের আচরণ—যেমন সাঁতার বা লাফ—ব্যাখ্যা করা কঠিন। ইতালিতে নজিরবিহীন গবেষণা জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিম্যাল বিহেভিয়রের বিজ্ঞানী মার্টিন ভিকেলস্কি এই বিষয়ে ব্যতিক্রমী এক গবেষণা পরিচালনা করেন। ইতালির ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে তিনি ছয়টি গরু, পাঁচটি ভেড়া ও দুটি কুকুরের শরীরে বিশেষ সেন্সর স্থাপন করেন এবং কয়েক মাস ধরে তাদের আচরণ বিশ্লেষণ করেন। ছবি: সংগৃহীত ফলাফল বিস্ময়কর—ভূমিকম্পের প্রায় ২০ ঘণ্টা আগে প্রাণীগুলোর সক্রিয়তা স্পষ্টভাবে বেড়ে যায়। তারা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি নড়াচড়া করে, বিশেষত ৪৫ মিনিটের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমায়। তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা ৪.০ মাত্রার ওপরে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প সঠিকভাবে আগাম পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হন। আটটি বড় ভূমিকম্পের মধ্যে সাতটি সঠিকভাবে শনাক্ত হয়। এই ফলাফল গবেষকদের নতুন প্রশ্নে নিয়ে যায়—প্রাণীদের কি সত্যিই এমন জিনগত প্রবণতা আছে যা তাদের ভূমিকম্পের আগাম ইঙ্গিত দেয়? বিবর্তনের ধারায় কি তারা এমন প্রবৃত্তি গড়ে তুলেছে, যা বিপদ এড়ানোর প্রাকৃতিক প্রবণতার অংশ হয়ে উঠেছে? গবেষকদের মধ্যে দ্বিমত, বিতর্ক থামেনি তবে এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের নিজেদের মধ্যেই ঐকমত্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী হুইট গিবন্স বলেন—মানুষের উচিত ভূমিকম্প শনাক্তকরণে বিজ্ঞানীদের সিসমিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রাখা, প্রাণীর আচরণের নয়। ছবি: সংগৃহীত অন্যদিকে ১৮০টি বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ১৬০টি ভূমিকম্পের আগে প্রাণীদের ৭০০টির বেশি অস্বাভাবিক আচরণের নথি—যা একধরনের সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। যদিও এখনো এটি নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণীদের বেঁচে থাকার কৌশল বিজ্ঞানীরা মনে করেন—বিপদ এড়ানো প্রাণীদের হাজার বছরের বিবর্তনধর্মী দক্ষতা। অগ্নিকাণ্ডের আগে পাখির হঠাৎ উড়ে যাওয়া, ঝড়ের আগে পোকামাকড়ের গর্তে ঢুকে পড়া বা সুনামির আগে বন্যপ্রাণীর উঁচু ভূমির দিকে ছুটে যাওয়া—এসব আচরণ প্রাকৃতিক প্রবৃত্তিরই অংশ। প্রাণীরা হয়তো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সব ধরনের আগাম সংকেত পায় না, তবে পরিবেশের ক্ষুদ্রতম পরিবর্তন—বায়ুচাপ, কম্পন, শব্দ বা গন্ধ—মানুষের তুলনায় তারা অনেক দ্রুত শনাক্ত করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত আগাম সতর্কতার ভবিষ্যৎ: প্রাণী কি হতে পারে ‘লাইভ অ্যালার্ম সিস্টেম’? বিশ্বের নানা দেশে এখন প্রাণীদের ওপর সেন্সর লাগিয়ে রিয়েল-টাইম ডেটা সংগ্রহের প্রকল্প চলছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন—প্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণ একদিন ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থার অংশ হতে পারে। আবার অনেকে সতর্ক করছেন—এটি এখনো প্রমাণিত বিজ্ঞান নয়, তাই শুধুমাত্র প্রাণীর আচরণের ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক। প্রাণীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি পূর্বাভাস দিতে পারে—এমন দাবি এখনো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক সমর্থন পায়নি। তবে প্রাণীদের অস্বাভাবিক আচরণ, বিবর্তনজনিত প্রবৃত্তি এবং সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দেয়—তাদের সংবেদনশীলতা মানবজাতির জন্য ভবিষ্যতে নতুন আলোচনার পথ খুলতে পারে। তথ্যসূত্র: সাইয়েন্স ডিরেক্ট, বিবিসি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ২৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার কিছু পরে রাজধানীর ফার্মগেটে স্টার হোটেলের সামনে গুলির ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আজিজুল হক মোসাব্বিরকে উদ্ধার করে নিকটস্থ বিআরবি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পেটে তিন রাউন্ড গুলি লেগেছিল। এ ঘটনায় সুফিয়ান বেপারি (মাসুদ) নামে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সুফিয়ান বেপারি (মাসুদ) কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনিও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ এডিসি ফজলুল করিম গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজিজুল হক মোসাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম বলেন, স্টার কাবাবের পাশের ওই গলিতে দুজনকে গুলি করা হয়েছে। এদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আজিজুল হক মোসাব্বিরকে গুলি করে। প্রাথমিকভাবে তাকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেখানে তার দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। গুলিবিদ্ধ নেতার ভর্তির ঘটনায় বিআরবি হাসপাতালের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে রাস্তা সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে গেছে। ৫০-৬০জন নেতাকর্মী তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে সোনারগাঁও ক্রসিং এর ইনকামিং এ অবস্থান নিয়েছে। সোনারগাঁও ক্রসিং এর ইনকামিং বন্ধ আছে। তেজগাঁও থানা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ মিলন যুগান্তরকে বলেন, বিকেল থেকেই আমি মুছাব্বির ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম। বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে আমরা একসঙ্গে কাওরান বাজারের ১ নম্বর ডিআইপি মার্কেটে যাই। এরপর কাজীপাড়ায় এসে মুছাব্বির ভাই মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিল উপলক্ষে তিনি স্টার হোটেলে তাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর এবং ঢাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে হোটেলের দোতলায় একটি সভা শুরু করেন। সভা শেষ করে রাত আনুমানিক আটটার দিকে মুছাব্বির ভাই নিচে নামেন। তখন স্টার হোটেলের সামনে আমি, সুফিয়ান বেপারী, মাসুদ ও নুর আলম মিলন ভাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় মুছাব্বির ভাইয়ের পরিচিত এক বিএনপি নেতা সামনে এলে তাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য আমি ও আরেকজন রাস্তার অপর পাশে ওয়াসা ভবনের তলায় যাই। ওই সময় মুছাব্বির ভাই ও মাসুদ স্টার হোটেল থেকে তাঁর বাসার উদ্দেশ্যে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে কাজীপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ মাসুদ আমাকে ফোন করে জানায় যে, তাদের দুজনকে গুলি করা হয়েছে এবং দ্রুত সাহায্য করতে বলে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি মুছাব্বির ভাই একটি ভ্যানের ওপর পড়ে আছেন এবং মাসুদ আরেকটি ভ্যানের ওপর পড়ে আছেন। দুজনেরই পেটে গুলি লেগেছিল। মুছাব্বির ভাইয়ের শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তখন আমি তাঁর পেটে চাপ দিয়ে ওই ভ্যানেই করে দ্রুত মুছাব্বিরকে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছিলেন এক নারী। এক তরুণীর লাঠি দিয়ে মধ্যবয়সী ওই নারীকে পেটানোর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। মারধরের শিকার ওই নারীকে আজ শুক্রবার গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। ধানমন্ডি থানা–পুলিশ আজ বিকেলে সালমা ইসলাম নামের এই নারীকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সালমা ইসলামের আইনজীবী আবুল হোসেন পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন তাঁর মক্কেলকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। অপর দিকে তাঁরা জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪২ বছর বয়সী সালমা ইসলাম আজিমপুরে বসবাস করেন। তিনি একজন গৃহিণী। গতকাল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে হামলার শিকার হন তিনি। সালমা ইসলামকে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার পর ওনাকে মারধর করা হয়। সেখান থেকে কয়েকজন তাঁকে আমাদের হাতে সোপর্দ করে।’ সালমা ইসলামকে গত বছরের ১৯ জুলাই সরকারবিরোধী আন্দোলন চলার মধ্যে ধানমন্ডিতে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। গতকাল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে ওই নারীকে পেটানোর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া গত বছরের ১ ডিসেম্বর হওয়া ওই মামলার ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেছেন, এ মামলার বাদী ইউরোপিয়ান ইউনির্ভাসিটির বিবিএ তৃতীয় বর্ষের একজন ছাত্র। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলা অবস্থায় শুরু থেকে বাদী আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে বাদী ও আরও অনেকে ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে মিছিল করছিলেন। এ সময় কতিপয় আসামিদের নির্দেশে অন্য আসামিরা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ–সহযোগী ও ১৪–দলীয় জোটের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, কাটা রাইফেল, পিস্তল, দেশি রামদা, চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল, রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সুসজ্জিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের তাঁদের ন্যায্য দাবি থেকে উৎখাত করার লক্ষ্যে অনবরত গুলিবর্ষণ করতে থাকে। একটি গুলি বাদীর পিঠে লেগে পেট দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নেন। মামলা করার সময় আসামির তালিকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এ মামলা হওয়ার পর এর তদন্তভার গ্রহণ করেন উল্লেখ করে সালমা ইসলামকে নিয়ে আদালতে দেওয়া আবেদনে এসআই আনোয়ার লিখেছেন, ‘অত্র মামলাটির তদন্তকালে তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণে অত্র মামলার ঘটনার সহিত উপরিউক্ত গ্রেপ্তারকৃত আসামি জড়িত মর্মে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়।’ তদন্ত কর্মকর্তার এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন সালমা ইসলামের আইনজীবী আবুল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি (সালমা ইসলাম) আবেগের বশে গতকাল দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় “জয় বাংলা” স্লোগান দেন। সেখানে ওনার ওপর মব সৃষ্টি করে মারধর করা হয়। ভুক্তভোগী হওয়ার পরও ওনাকে আজ আদালতে আনা হয়েছে। জুলাইয়ের হত্যাচেষ্টা মামলা দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায় হয়েছে। যে অপরাধ উনি করেননি, সে মামলায় ওনাকে আসামি করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’ সালমা ইসলামকে কেন এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, সে প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন স্যারদের নির্দেশে ওনাকে এ মামলায় গ্রেপ্তর দেখানো হয়েছে। এ মামলায় ওনার সম্পৃক্ততার ব্যাপারে কয়েকজন সাক্ষ্য দিয়েছে। তাদের সাক্ষ্যের আলোকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’ যাঁরা সালমা ইসলামকে আপনার হাতে তুলে দিয়েছেন, তাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন কি না, সে প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তাঁরা ছাড়াও অন্য সাক্ষীরা বলেছেন।’
গেল কয়েক বছরে শাকিব খান যেন ভিন্ন রূপে আছেন। নিজেকে অনেকটাই বদলেছেন এবং বিভিন্ন ধরনের সিনেমায় নিজেকে প্রমাণও করছেন। তার নতুন লুক, গেটআপ এবং উপস্থাপনায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে শাকিব তার আসন্ন সিনেমা ‘সোলজার’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। খবর পাওয়া গেছে যে, শাকিব খান তার পরবর্তী সিনেমায় পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমিরকে তার বিপরীতে তুলে ধরবেন। এই তথ্য নিজেই নিশ্চিত করেছেন শাকিব। সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান দ্য ছোট ভাইয়ের একটি ভিডিওতে শাকিব বলেন, ‘তোমার অনেকগুলো ভ্লগ দেখলাম, আমার ভবিষ্যৎ হিরোইনের সঙ্গে, হানিয়ার সঙ্গে।’ এরপরে এক প্রশ্নের উত্তরে শাকিব জানান, ‘একটি সিনেমার জন্য তার সঙ্গে কথা চলছে।’
পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনি গণসংযোগে গিয়ে গুলিবিদ্ধ স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে তার অস্ত্রোপচার চলছে। তরুণ এই রাজনীতিক ও অ্যাক্টিভিস্টের সুস্থতা কামনায় দোয়া করছে দেশবাসী। সেই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, তরুণ রাজনীতিক ও অ্যাক্টিভিস্ট শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। আল্লাহ তাকে সুস্থভাবে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, হাদি ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বেঁচে থাকুন, আমাদের মাঝে ফিরে আসুন- এই দোয়া করুন সবাই। সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের তফশিলের পরপরই এরকম ঘটনা অশনিসংকেত। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করুন। হাদির সঙ্গে নিজের স্মৃতিচারণ করে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ডা. আসিফ সৈকত বলেছেন, তার সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে ইনবক্সে, মেসেঞ্জারে। ছোটো একটা ইস্যুতে ব্লক করলো আমাকে, পরে আবার ব্লক তুলে আরেক ছোটোভাইকে দিয়ে বলালো- ‘আসিফ ভাই , হাদি ভাই বলছেন, ওনাকে ভুল না বুঝতে, দোয়া করতে।’ আমি কিছুই বললাম না। অভিমানটুকু জিইয়ে রাখলাম। বড়ভাইগিরি ফলালাম। মনটা খুব খারাপ লাগতেছে , নিজেকে অপরাধী লাগতেছে। সেরে উঠ ভাই আমার, আমার জীবনে যদি একটা ভালো কাজও করি- সেটার উছিলায় আল্লাহ তোকে সুস্থ করে দিন। বড়ভাইকে মাফ করে দিস হাদি। আল্লাহ তোর বাচ্চাটার জন্য হলেও তোকে ফিরিয়ে দিন। ইমরুল হাসান লিখেছেন, জুলাইয়ের পরে যেই ২-৪টা জায়গা তৈরি হইছে, তার একটা হইতেছে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার, যেই ২-৪টা ভয়েস তৈরি হইছে, তার একজন হইতেছেন ওসমান হাদি! হাদিরে গুলি করা মানে হইতেছে জুলাইয়ের বুকে গুলি চালানো! প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন বলেন, হাদিকে আল্লাহ সুস্থতা দান করুন। হাদির এমন পরিস্থিতি দেখাটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। তরুণ আলেম ও অ্যাক্টিভিস্ট মনযূরুল হক বলেন, একটা লোক দিনের পর দিন হুমকি পেয়েছে, প্রকাশ্যে একাধিকবার সে-কথা সে বলেছেও, তার জন্য সরকার কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই নাই। এই দায় সরকার এড়াবে কী করে? জুলাইয়ের সন্তানদের মূল্য সরকারের কাছে কী, শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার যন্ত্র মাত্র? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের) বলেন, আমার ভাই ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঢামেকের ইমার্জেন্সিতে ভর্তি এখন। খাস করে দোয়া চাই সবার। হাদির সুস্থতা কামনা করে এনসিপি নেতা সারজিস পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেন, ‘হে আল্লাহ, আমাদের ন্যায় ও ইনসাফের পথের সহযোদ্ধা ওসমান হাদি ভাইকে হেফাজত করুন।’ সিনিয়র সাংবাদিক হাসান আদিল সিদ্দিকী বলেছেন, হাদি, আমার ভাই, আমাদের ভাই।তার কিছু হলে তোমাদের রক্ষা নাই।জুলাইয়ে পর যখন সবাই যে যার হিস্যা বুঝে নিয়েছেন তখন হাদি ভাই বেছে নিয়েছিলেন সবচেয়ে সংগ্রামের পথ। নিজেকে নিয়োজিত করলেন জাতি গঠনের কাজে। তিনি রঠা সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে পোস্টারবয় হয়ে উঠেছিলেন। আমরা তাকে ইসলামি জাগরণের অগ্রসৈনিক মেনে নিয়েছিলাম। তাকেই আজ স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ইসলামের হয়ে কথা বলাটা এখনো নিরাপদ নয়। গুলি, খুন, অব্যাহত অপপ্রচারের মাধ্যমে এই দেশে ইসলামের জাগরণ ঠেকানো যাবে না। এদিকে হাদিকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এনসিপি নেতা ও জুলাইযোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লাহ।তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। নুর মোহাম্মদ লিখেছেন, ‘হে কাবার মালিক হে আসমান–জমিনের মালিক হে জীবন দানকারী ও জীবন গ্রহণকারী তোমার অসীম কুদরতি শক্তির বরকতে আমার ভাই ওসমান হাদিকে পূর্ণ সুস্থতা দান করো। ওয়ালিদ হোসাইন সবুজ লিখেছেন, গুলির আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয় যে জীবন; সে জীবন জনতার, সে জীবনই জয় করে ভূবন। হাদি আপনি পারবেন, আপনাকে পারতেই হবে। মো. আব্দুল্লাহ লিখেছেন, যারা মরার জন্য জন্ম নেয় তারা মৃত্যুকে ভয় করে না। তফশিল ঘোষণার একদিনের মধ্যে জুলাইয়ের অন্যতম নায়ক ওসমান হাদি আক্রান্ত হলেন! আমরা দোয়া করছি- আল্লাহ হাদি ভাইকে সুস্থতা এবং নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে রাখুন। রাষ্ট্রকে যারা অকার্যকর করতে চাচ্ছে, তাদের লাগাম টেনে ধরার সময় এখনই। মুসতাকিন মিয়া বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে অকুতোভয় সৈনিক আমাদের প্রিয় হাদি ভাই। আল্লাহ তাকে সকল ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন।
‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসর। এবারের আসরে ১২১টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে সগৌরবে প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশের তানজিয়া জামান মিথিলা। থাইল্যান্ডে শুরু হওয়া এ আসরে ইতোমধ্যে ভোটের তালিকায় ২য় অবস্থানে উঠে এসেছেন মিথিলা। আগামী ২১ নভেম্বর থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় শহর পাক ক্রেটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসরের জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে। গত সেপ্টেম্বরে ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’-এর মুকুট জেতার পর দেশের পতাকা হাতে গত অক্টোবরের শেষ দিকে তিনি থাইল্যান্ডে মূল মঞ্চে উড়ে গিয়েছেন। তবে মূল প্রতিযোগিতায় নামার আগে পুরোনো একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের বিতর্কের মুখে পড়লেন এই মডেল। পুরোনো সেই বিতর্কিত ‘ওয়াশরুম ভিডিও’ প্রসঙ্গে সম্প্রতি লাইভে এসে মুখ খুলেছেন মিথিলা। নেটিজেনদের ক্রমাগত নেতিবাচক প্রচারণায় তিনি রীতিমতো বিব্রত। লাইভে মিথিলা প্রথমে স্বীকার করেন যে ঘটনাটি বহু বছর আগেরপ্রায় সাত থেকে আট বছর পুরোনো। তিনি দাবি করেন, যখন ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন তারা সবাই ছোট ছিলেন এবং এটি একটি ‘প্র্যাঙ্ক’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। বিতর্কিত ভিডিওটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের প্রথমে যেটা বলতে চাই, যখন ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন আমরা ছোট ছিলাম। ওই ঘটনাটা যখন ভাইরাল হয়, একদল মানুষ বলে, আমি সেক্সুয়ালি তাকে হ্যারাস করেছি। তার আগে বলি, যে মানুষটা ওয়াশরুমে ছিল, সে কিন্তু আমাদের বন্ধু ছিল। আমরা জিনিসটাকে প্র্যাঙ্কের মতো করে দেখিয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ওখানে ছিলাম, ওখানে আপনারা আমাকে দোষ দিতে পারেন না। আপনারা যেহেতু জিনিসটাকে এত বড় করেছেন। ফেসবুকে অনেকবার বলেছি, আমাকে দয়া করে ক্ষমা করে দিয়েন। আমি ছোট ছিলাম বুঝিনি, বোকার মতো কাজটা করেছি।’ নেটিজেনদের তিনি বলেন, ‘আপনারা ৭/৮ বছরের পুরোনো ভিডিওতে আমাকে নিয়ে নেগেটিভ পাবলিসিটি করছেন। আমাকে নেগেটিভ পাবলিসিটি করলে (প্রতিযোগিতায়) জিততে পারবো না, আমাকে জেতাবে না এরা।’