Brand logo light

রাজনীতি

স্মৃতিসৌধে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা

সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১০টার দিকে স্মৃতিসৌধে পৌঁছে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। এদিন বিকাল ৫টার দিকে সাভারের দিকে রওনা হন তিনি। তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী। এর আগে বিকাল ৪টা ৪২ মিনিটে শেরেবাংলানগরের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর দোয়া ও মোনাজাত করেন তারেক রহমান। তারেক রহমানের এই কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গুরুত্ব পয়েন্টে ব্যাপকসংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকাল থেকেই স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় লাখো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে এবং তাকে স্বাগত জানাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর থেকে শুরু করে স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটক পর্যন্ত এখন জনারণ্য। হাতে ব্যানার, ফেস্টুন আর জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে স্মৃতিসৌধ এলাকায় জড়ো হন নেতাকর্মীরা। ‘তারেক রহমান বীরের বেশে, ফিরলেন এবার বাংলাদেশে’—এমন নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। নেতাকর্মীদের এই ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের। জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, দুপুরের পর থেকেই সাভার, ধামরাই ও আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা এসে জমায়েত হতে শুরু করেন। গত ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় অগণিত মানুষের সমাগম ঘটে। ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন জনসমাগমে ঢাকা মহানগরী জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পরে বিকালে রাজধানীর ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট) আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনায় তিনি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি তুলে ধরেন এক নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের চিত্র, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

Tonmoy Khan ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫ 0
ধীরে এগিয়ে চলেছে তারেক রহমানের গাড়িবহর, নেতা–কর্মীর ঢল

ধীরে এগিয়ে চলেছে তারেক রহমানের গাড়িবহর, নেতা–কর্মীর ঢল  

দেখো নিউজ ডেস্ক ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫ 0
সপরিবারে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে তারেক রহমান

দেশে ফিরতে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় আজ রাত সোয়া ১২টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।  দীর্ঘ ১৭ বছর পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর প্রথম তিন দিন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।  বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে করে তারেক রহমানের তিন দিনের কর্মসূচির কথা জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।  তিনি বলেন, আগামীকাল দুপুরে বিমানবন্দরে নামার পর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন। এরপর তিনি জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে তথা ৩০০ ফিট রাস্তায় সংবর্ধনাস্থলে যাবেন। সেখানে অপেক্ষায় থাকা নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। এরপর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখান থেকে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে কাকলীর মোড় হয়ে গুলশান–২ নম্বরে বাসভবনে চলে আসবেন। সেদিন আর অন্য কোনো অনুষ্ঠান হবে না। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরদিন ২৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার জুমার নামাজের পর তারেক রহমান বাসভবন থেকে প্রথমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। সেখান থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর ২৭ ডিসেম্বর, শনিবারও দুটি কর্মসূচি রয়েছে। ওই দিন জাতীয় পরিচয়পত্রের কাজ করবেন তিনি। এ জন্য তারেক রহমান সশরীর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে যাবেন কি না, সেটা পরে জানানো হবে। ওই দিনই ভোটার হতে সব কাজ করবেন। এরপর শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাবেন। শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে সেখান থেকে রাজধানীর শ্যামলীতে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের দেখতে যাবেন তারেক রহমান। এরপর আরেকটি অনুষ্ঠান হবে, সেটার বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

Tonmoy Khan ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫ 0
হাদির মতো অবস্থা যেন কারো না হয়, সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে: আসিফ মাহমুদ

শহীদ ওসমান হাদির মতো অবস্থা যেন আর কারো না হয়, সেটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১০ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া।  তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা, নির্বাচন বানচাল করা এবং বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ যেন কেউ না পায় সেটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচন করতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ বলেন, আজ আমি ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম কিনলাম। আপনারা জানেন যে, ঢাকা-১০ আসনটি ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও কামরাঙ্গীচরের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত একটি আসন। এই আসনের মানুষের অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা আছে এই নির্বাচনকে ঘিরে। এই আসনের প্রত্যেকটি থানা-ওয়ার্ডের ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা আছে। আমরা সেগুলো নিয়ে সামনের দিনে কাজ করতে চাই। আমরা জনগণের সঙ্গে কথা বলছি। তাদের সমস্যাগুলোর কথা শুনছি। সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমি এই জার্নিতে ইতোমধ্যে অ্যানাউন্স করেছি প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি এবং এই জার্নিতে এই আসনের জনগণের ও সারা দেশের মানুষের সহায়তা চাই। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে তফসিলের পরদিনই একটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ঢাকা-৮ আসনের ওসমান হাদি ভাইকে সেদিন গুলি করা হয়েছিল এবং তিনি শহীদ হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আমরা মনে করি, সরকারকে অবশ্যই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, প্রার্থীদের নিরাপত্তা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনা যেন আর কোনোভাবেই না ঘটে সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরটা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ওসমান হাদির মতো আমরাও এই নির্বাচন যেন সঠিক সময়ে এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়, সেটা কামনা করি। সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা থাকবে। তিনি বলেন, শরিফ ওসমান হাদির যেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে, আমরা দেখেছি এখন পর্যন্ত সরকার আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে। আসামিদেরকে আইডেন্টিফাই করা হয়েছে, তারা কোথায় আছে সেটাও সরকার নিশ্চিত করতে পারছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

Tonmoy Khan ডিসেম্বর ২২, ২০২৫ 0
তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও নিরাপত্তা নিয়ে যা জানালেন সালাহউদ্দিন

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এর মধ্যেই ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন তোলপাড় হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঘিরে নিরাপত্তা ইস্যুটি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। এদিকে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলাকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তার ভাষায়, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে ১০ তারিখ, তারপর দিনই বাংলাদেশে একজন সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর ওপরে হামলা হলো। হামলার ধরন দেখে বোঝা যায় এটা পেশাদার শ্যুটারের কাজ।’  তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখবো। সুদৃঢ় করবো। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক হতে পারে, সামনে নির্বাচন বিভিন্ন রকমের রাজনৈতিক বিতর্ক হবে কিন্তু আমরা ওই পর্যায়ে বিতর্ক করবো না, যাতে আমাদের ঐক্য বিনষ্ট হয়।’ দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা ও তার নিরাপত্তা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যাতে নিরাপদে থাকে, সে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য সরকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছি আমরা।’  তিনি যোগ করেন, ‘এ বিষয়টা আজ এখানে আলোচনা হয়নি, অবশ্যই বিষয়টা আমাদের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা দলীয়ভাবেও চেষ্টা করবো, সরকারকেও আহ্বান জানাবো যাতে উনার (তারেক জিয়া) নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘কোন আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে, সরকারের দায়িত্ব আছে, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে। জনগণের সচেতনতা জরুরি।’ এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যৌথ বাহিনী, সরকার, জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ এই ধরনের ঘটনা আমরা বন্ধ করতে পারব।’ সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘আমাদের চেতনা হচ্ছে জুলাই-২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা। প্রত্যাশা, জনআকাঙ্ক্ষা এইটাকে আমরা ঊর্ধ্বে তুলে ধরবো। জাতীয় ঐক্য হিসেবে আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যকে অুটট রাখবো। এই জায়গায় আমাদের কোন আপস নেই।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিবাদকে অবশ্যই আমরা এই বার্তা দিতে চাই, এই জাতীয় কোনো ধরনের হামলা করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। প্রতিহত করতে পারবে না।’  প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরের পানির ট্যাংকির সামনে রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সন্ধ্যার পর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন। হাদির শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গতকাল রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায়) অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানান, ‘বাম কানের ওপর দিয়ে ঢুকে ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বুলেট হাদির মস্তিষ্কের কাণ্ড বা ব্রেন স্টেম পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ম্যাসিভ ব্রেন ইনজুরি’ হিসেবে বিবেচিত।’ তিনি বলেন, ‘আগামী ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, আর এ অবস্থায় কোনো ধরনের নতুন ইন্টারভেনশন করা হবে না।’ তিনি আরও জানান, ‘হাদি এখন ‘খুবই ক্রিটিক্যাল’ অবস্থায় আছেন এবং আগামী ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।’ বর্তমানে তাকে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে চিকিৎসকেরা এখনই আশার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।

দেখো নিউজ ডেস্ক ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫ 0
নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশ রক্ষা পাবে: তারেক রহমান

জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশ রক্ষা পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধানের শীষকে জিতাতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। ধানের শীষকে জিতানোর মাধ্যমে জনগণের যে পরিকল্পনা, জনগণের পক্ষের যে পরিকল্পনা- তা বাস্তবায়ন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ধানের শীষকে জিতানোর মাধ্যমে দেশকে রক্ষা করতে হবে। প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ এবং সবার আগে বাংলাদেশ। নো কম্প্রোমাইজ। বুধবার বিকালে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দলের নেতাকর্মীদের প্রতি এ আহ্বান জানান।  রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজনে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান হয়। এতে যুবদল ও কৃষক দলের নেতারা যোগ দেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনার দল আপনার সামনে যে স্ট্রেইটকাট প্ল্যান উপস্থাপন করল, দেখান তো আর কোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে আছে এরকম প্ল্যানিং দিয়েছে। না, কোনো রাজনৈতিক দল এ রকম প্ল্যান দিতে পারেনি। দেশের মানুষকে কোনো পরিকল্পনা দিতে পারেনি যে, দেশকে আমরা কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। একমাত্র বিএনপি এই প্ল্যান দিয়েছে। কাজেই এখন বসে থাকার সময় নেই। আপনাকে যুদ্ধে নেমে পড়তে হবে। যুদ্ধ কী? মানুষের পক্ষে, দেশের পক্ষে। এই যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে আমাদের।’ তিনি বলেন, ‘দেশ গড়তে শুধু পরিকল্পনার মধ্যে রাখলে হবে না। বাংলাদেশে বহু পরিকল্পনা হয়েছে, যা পরিকল্পনাতেই রয়ে গেছে। আমরা আমাদের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে চাই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেমন আন্দোলন করেছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই প্ল্যানিং বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা এ কাজটা শুরু করব, পরবর্তী জেনারেশন সেটা কনটিনিউ করবে। এটার শেষ নেই।’ দলের পরিকল্পনা ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে- এ নির্দেশনা দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, দলের পরিকল্পনা মানুষের সামনে নিয়ে যেতে হবে। জনগণকে কনভিন্স করতে হবে। জনগণকে বুঝাতে হবে, এই কঠিন কাজটি করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় এই দেশ এবং জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা যদি সজাগ না হই, যদি এই যুদ্ধে মাঠে নেমে না পড়ি, এই দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, দেশকে প্রত্যেকবার বিএনপি রক্ষা করেছে। ইতিহাস ঘাটুন তাহলে দেখবেন প্রত্যেকবার রক্ষা করছেন শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া। তারা যতবার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তার আগে দেশের কী অবস্থা হয়েছে? তারেক রহমান বলেন, এখন শহীদ জিয়া এবং খালেদা জিয়ার দায়িত্ব আপনাদের (নেতাকর্মীদের) কাঁধে এসে পড়েছে। এই দেশকে আপনাদের রক্ষা করতে হবে। প্রত্যেককে উঠে দাঁড়াতে হবে।  ঘর থেকে বেরিয়ে মানুষের কাছে যেতে হবে, দোরগোড়ায় যেতে হবে। তাহলেই আমাদের পক্ষে সম্ভব। আসুন এই যুদ্ধ আমরা শুরু করি। ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, পরিবেশ রক্ষা, বেকার সমস্যার সমাধান, শিক্ষার উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে দলের অগ্রাধিকার পরিকল্পনাগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তার রূপরেখা যুবদল ও কৃষক দলের নেতাদের সামনে তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।  নারী, কৃষি ও শিক্ষা পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করতে চাই। এতে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত তৈরি হবে। কৃষি রপ্তানি বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষায়ও দক্ষ হতে পারে- এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন, আমরা কোনো মেগা প্রজেক্টে যাব না, এতে দুর্নীতি হয়। আমরা টাকা খরচ করব শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। যাদের মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই হবে নারী। দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এখনই কাজ শুরু করতে পারলে আগামী ১০ বছর পর দেশ সুফল পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। খেলাধুলা ও নগর পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-ক্রীড়া- এই তিন মন্ত্রণালয় সারা বছর একসঙ্গে কাজ করবে। দম বন্ধ করা শহরে খেলার মাঠ নেই। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে বাজার দরে জায়গা কিনে আমরা খেলার মাঠ তৈরি করে দেব। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী প্রমুখ।

দেখো নিউজ ডেস্ক ডিসেম্বর ১০, ২০২৫ 0
বিএনপির শুধু ‘ডিটেইল প্ল্যানিং’ আছে, অন্য দলের নেই : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ‘ডিটেইল প্ল্যানিং’ শুধু বিএনপির আছে, আর কোনো দলের নেই।  তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ট্র্যাক রেকর্ড আমরা অতীতে দেখেছি। তাদের কাছে কোনো প্ল্যান নেই। কথার ফুলঝুড়ি দিয়ে রাষ্ট্র চলে না, জনগণের পেটের খাবার কর্মসংস্থান ও অর্থের সংস্থান হয় না। এসব কিছুর জন্য পরিকল্পনা লাগে। আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বিজয়ের মাস উপলক্ষ্যে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে আয়োজন করে বিএনপি। তারেক রহমান বলেন, জনগণ আমাদের কাছে প্রত্যাশা করে, কীভাবে দেশকে পরিচালনা করব, তাদের সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করব। পুরো পরিকল্পনা জনগণ আমাদের কাছে দেখতে চায়।  দেশের দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নারী শিক্ষার বিস্তার, ক্রীড়ার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বেকারত্ব দূর, তরুণদের প্রশিক্ষণ, শিল্পখাতের প্রসার, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মাস কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিএনপির পরিকল্পনাসমূহ বিস্তারিতভাবে জনগণের দ্বারগৌড়ায় পৌঁছে দিতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন তারেক রহমান। বিএনপি দেশকে দুর্নীতির গ্রাস থেকে বারবার মুক্ত করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির আমলে দুর্নীতির সূচক কমতে থাকে। প্রতিবার বিএনপির সরকার দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে কাজ করেছে এবং বেগম খালেদা জিয়ার ২০০১-২০০৬ সালের শাসনামলে ধীরে ধীরে দেশকে দুর্নীতির ‘তকমা’ থেকে বের করে আনা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করেছিলেন। তখন সরকারি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গেলে অনুমতি লাগত না। অথচ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সেই আইন পাল্টে ফেলে। বিএনপির রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে এসব নিয়ম পাল্টে ফেলা হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং অধিকার রক্ষায় (যেমন: তালপট্টির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়) বিএনপির সুস্পষ্ট ও সফল ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীবন বাজি রেখে ভারতকে তাড়িয়ে বাংলাদেশেরই অংশ তালপট্টি দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন। পানির ন্যায্য হিসাব পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গিয়েছে একমাত্র বিএনপি। তারও আগে ১৯৭৫ সালে সিপাহী জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান শাসনভার গ্রহণ না করলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিলুপ্ত হয়ে যেত। দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করার ওপর জোর দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মূল জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের কেন ঘরের মধ্যে রেখে দেব? আমরা ক্ষমতায় এলে প্রায় চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, যে কোনো মূল্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। অন্যায় যে করে সে কোনো দলের হতে পারে না, সে অন্যায়কারী। অতীতে দলের কেউ অন্যায় করলে বিএনপি দলীয়ভাবে নয়, আইন দিয়ে বিচার করেছে। আগামীতেও সেটাই করবে। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ব্যাক্তি বড় নয়, যেহেতু এটা দলীয় কর্মসূচি, তাই সবার আগে দলকে নিয়ে আসতে হবে। দল যদি টিকে থাকে, বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন যদি এই দলের পক্ষে থাকে তাহলেই আমরা দেশ গড়ার কর্মসূচিগুলো সফল করতে পারবো। তাই দেশের মানুষের সমর্থন পেতে হলে, যার যার এলাকায় টিম করে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে যেতে হবে। দেশ গড়ার পরিকল্পনাগুলো আমরা পরিকল্পনার মধ্যে রাখবো না। সেগুলো লিফলেট আকারে যে যত কপি পারেন ছাপিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের আজকে প্রতিজ্ঞা, আমাদের আজকের কর্মপন্থা হলো এই পরিকল্পনাগুলোর সাথেই আমরা দেশের জনগণকে সম্পৃক্ত করবো। ‘দেশ গড়া পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের নেতা-কর্মীরা এতে অংশ নেন।

দেখো নিউজ ডেস্ক ডিসেম্বর ৯, ২০২৫ 0
কোন আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন রেজা কিবরিয়া?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বরাবরই চমক ড. রেজ কিবরিয়া। বাবা ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এমএস কিবরিয়া। গ্রেনেড হামলায় জীবন দিয়েছেন। কিন্তু আওয়ামী এই হত্যার বিচার করেনি। ক্ষোভে অভিমানে দল ছাড়েন রেজা। একপর্যায়ে গণফোরামে যোগ দেন। সেখানে তাকে ঘিরে নানা কোন্দল সৃষ্টি হয়। দলটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন রেজা। গণফোরামে থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করেন ২০১৮ সালের নির্বাচনে।  এরপর গণফোরামে ভাঙাগড়ার খেলা শুরু হয়। একপর্যায়ে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গ ছাড়েন রেজা কিবরিয়া। নতুন দল গঠন করেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে সঙ্গে নিয়ে। গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। কিন্তু নুরের সঙ্গেও বেশি দিন বনীবনা হয়নি তরুণ এই রাজনীতিকের।একপর্যায়ে গণঅধিকার পরিষদ ভেঙে যায়। নুর আলাদা কমিটি করেন। একপর্যায়ে রাজনীতি থেকেই দূরে সরে যান রেজা কিবরিয়া। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে বেশ কিছুদিন রাজনীতি থেকে নির্বাসনে থাকেন। কিন্তু সেটি আর দীর্ঘ হয়নি। রক্তে যে রাজনীতির ধারাবাহিকতা! শেষ পর্যন্ত আবারও চমক দেখিয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন রেজা কিবরিয়া। সোমবার (১ ডিসেম্বর) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যুক্ত হন তিনি।  যোগ দিয়ে রেজা কিবরিয়া বলেন, বিএনপিতে যোগ দিতে পেরে আমি গর্বিত। আমি আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অত্যন্ত গর্বিত যে, রেজা কিবরিয়া এসে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। আমি আমাদের দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন জানাই। তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। বিএনপির ৩১ দফার আলোকে রেজা কিবরিয়া বাংলাদেশ গঠন ভূমিকা রাখতে পারবে বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চান। বিএনপির আগামী সংসদ নির্বাচনে জন্য ২৩৭ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সেখানে হবিগঞ্জ-১ আসনটি ফাঁকা রেখেছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেজা কিবরিয়া বিএনপির জোটসঙ্গী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে একই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকেই নির্বাচন করেছিলেন। গত নভেম্বরের শুরুর দিকেই বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। তিনি হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চান বলে জানিয়েছিলেন। তিনি নভেম্বরে বলেছিলেন, ‘ইতোমধ্যে আমি বিএনপিতে যোগদান করেছি। প্রাথমিক সদস্য ফরমও পূরণ করেছি। কয়েকদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করব। অবশ্যই আমি ধানের শীষে নির্বাচন করব আমার এলাকায়। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসাবে হবিগঞ্জ-১ থেকে ধানের শীষে নির্বাচন করেছি।’ 

দেখো নিউজ ডেস্ক ডিসেম্বর ১, ২০২৫ 0
‘দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের যুক্ত রেখেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে’

দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের যুক্ত রেখেই খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার সকালে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ড. রেজা কিবরিয়ার যোগদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা জানেন, ম্যাডাম অসুস্থ এবং আমাদের চিকিৎসকরা কাজ করছেন, আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। দেশি-বিদেশি সমস্ত চিকিৎসকদেরকে যুক্ত রেখেই তারা চিকিৎসাটা করছেন।’ ‘আল্লাহ তালার কাছে আমরা সবসময় গোটা দেশবাসী এই দোয়া করছি যে, আল্লাহতালা তাকে যেন সুস্থ করে দেন এবং তিনি যেন সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে আসেন।” গত রোববার থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভর্তি আছেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়ায় তার অবস্থা সংকটময় বলে বিএনপির তরফ থেকে জানানো হয়। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে খালেদা জিয়াকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট(সিসিইউ) নিয়ে চিকিৎসকরা নিবিড়ভাবে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে খালেদা জিয়া চিকিৎসা কাজ চলছে।  এই বোর্ডে তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান, যুক্তরাষ্ট্রের জনহোপকিনস বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাজ্যে লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকরাও রয়েছেন। লন্ডন থেকে তারেক রহমান মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গেও তিনি যোগাযোগে সমন্বয় করছেন।  

দেখো নিউজ ডেস্ক ডিসেম্বর ১, ২০২৫ 0
দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘অনেক চড়াই–উতরাই পার হয়ে, অনেক আন্দোলন, অনেক রক্ত, অনেক আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি। এই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুনভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার সুযোগ এসেছে।’ তিনি বলেন, মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অনেকগুলো সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। এসব কমিশনের মাধ্যমে আমরা সংস্কারের সনদ স্বাক্ষর করেছি। বর্তমানে দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মতো পরিস্থিতি ও পরিবেশ তৈরি হয়েছে।  সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও চলছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে দেশের মানুষ এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তাদের প্রতিনিধিত্বশীল পার্লামেন্ট গঠন করবেন। সেই পার্লামেন্টের মাধ্যমে তারা জনগণের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করবেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলতে পারি—বিএনপি যদি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তাহলে অবশ্যই দেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক এবং সমৃদ্ধশালী অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।’ বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘চেয়ারপার্সন বর্তমানে অত্যন্ত অসুস্থ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সারা দেশের মানুষ তার সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। আমরা তার জন্য দোয়া চাইছি, আল্লাহ তা’আলা যেন তাকে দ্রুত সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফেরত আনেন এবং দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ দেন।’   সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তার মেডিকেল বিষয়গুলো ডা. জাহিদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তিনি নিশ্চয়ই বিস্তারিত তথ্য দিতে পারবেন। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে তিনি অসুস্থ, এবং আমাদের চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। দেশি-বিদেশি সব চিকিৎসককে যুক্ত রেখেই চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।’

দেখো নিউজ ডেস্ক ডিসেম্বর ১, ২০২৫ 0
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে অনেক বিষয়ে অস্পষ্টতা খেয়াল করেছি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, সরকার গতকাল (বৃহস্পতিবার) জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করেছে, সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ পর্যালোচনা করে আমরা এই জুলাই সনদের মধ্যকার অনেক বিষয়ে অস্পষ্টতা খেয়াল করেছি।   শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাতে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আখতার হোসেন বলেন, আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, সরকার জুলাই সনদ নিয়ে যে সংকট এবং অস্পষ্টতার জায়গাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে দূর করে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে এবং খুবই ক্লিয়ার কাট ওয়েতে জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেই বিষয়গুলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশের মধ্যে তারা উল্লেখ করবেন। কিন্তু জুলাই সনদ আদেশ জারি করা হলেও এমন কিছু জায়গায় অস্পষ্টতা রয়ে গেছে, যাতে করে জুলাই সনদের আসলে পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যে আদেশে গণভোটের যে প্রসঙ্গ, সেই গণভোটকে কয়েকটি প্রশ্নে ভাগ করা হয়েছে। এই ভাগ করার মধ্য দিয়ে সংস্কারের সমস্ত বিষয়গুলোকে একভাবে না দেখে, আলাদা আলাদাভাবে এখানে দেখা হয়েছে। কিছু কিছু সংস্কারকে কম গুরুত্বপূর্ণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার কথা কমিশনে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেছি। সেই দুদক এখনো পর্যন্ত বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। আমরা যে বিষয়টিতে একমত হলাম এবং ঐকমত্য কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। সেই দুর্নীতি দমন কমিশন সেটা কি অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি থাকবে না? সে ব্যাপারেও কিন্তু এই সনদের বাস্তবায়নের যে আদেশ তাতে ক্লিয়ার করা হয়নি। সে জায়গায় একটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। এরপর উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এবার যে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে অর্থাৎ সনদ অবহিত হওয়ার পরের যে উচ্চকক্ষ সেই উচ্চকক্ষে কারা প্রতিনিধি হিসেবে যাবেন, তাদের তালিকা প্রকাশ না করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ কি এরকম যে, এবার তালিকা প্রকাশ করা হলো না। কিন্তু পরবর্তী থেকে উচ্চকক্ষের নির্বাচনের আগেই তাদের ক্যান্ডিডেটের তালিকা প্রত্যেকটা দলকে প্রকাশ করতে হবে কি না, সে বাধ্যবাধকতার কথাটি এই জুলাই সনদে অনুক্ত থেকে গেছে। আখতার হোসেন বলেন, আমরা জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন চেয়েছিলাম। এই আদেশের মধ্যে জুলাই সনদের সংস্কার প্রস্তাবনাগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বের বিচার, অগুরুত্বের বিচার তৈরি করে এটার আংশিক বাস্তবায়ন এবং আংশিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জুলাই সনদে যেগুলোতে আমরা একমত হয়েছি এবং কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, সেটা যদি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা না হয়, সেক্ষেত্রে কী ধরনের ফলাফল তৈরি হবে, সে বিষয়টা কিন্তু এই আদেশের মধ্যে উল্লেখ করা হয়নি। আমাদের দলের তরফ থেকে এর আগেও দাবি জানিয়েছি যে, গণভোটের যে ফলাফল সেটা যেন বাধ্যতামূলক থাকে। সেই গণভোটের ফলাফল থেকে যেন কেউ দূরে সরে না আসতে পারে। সরকারের কাছে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে আদেশ জারি করা হয়েছে, এই আদেশের ব্যাখ্যা ক্ষমতাবানরা তাদের মতো করে করতে পারেন তেমন একটা অবস্থায়, তেমন একটা ভাষ্যে। সরকার অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করবে এবং একইসঙ্গে যে বিষয়গুলোতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা রয়েছে, সে অস্পষ্টতাগুলো দূর করবে। জুলাই সনদ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেই সংকট নিরসনে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দেখো নিউজ ডেস্ক নভেম্বর ১৪, ২০২৫ 0
Popular post
রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ২৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।     বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার কিছু পরে রাজধানীর ফার্মগেটে স্টার হোটেলের সামনে গুলির ঘটনা ঘটেছে।  গুরুতর আহত অবস্থায় আজিজুল হক মোসাব্বিরকে উদ্ধার করে নিকটস্থ বিআরবি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পেটে তিন রাউন্ড গুলি লেগেছিল। এ ঘটনায় সুফিয়ান বেপারি (মাসুদ) নামে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সুফিয়ান বেপারি (মাসুদ) কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনিও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ এডিসি ফজলুল করিম গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজিজুল হক মোসাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম বলেন, স্টার কাবাবের পাশের ওই গলিতে দুজনকে গুলি করা হয়েছে। এদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আজিজুল হক মোসাব্বিরকে গুলি করে। প্রাথমিকভাবে তাকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেখানে তার দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। গুলিবিদ্ধ নেতার ভর্তির ঘটনায় বিআরবি হাসপাতালের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে রাস্তা সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে গেছে। ৫০-৬০জন নেতাকর্মী তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে সোনারগাঁও ক্রসিং এর ইনকামিং এ অবস্থান নিয়েছে। সোনারগাঁও ক্রসিং এর ইনকামিং বন্ধ আছে। তেজগাঁও থানা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ মিলন যুগান্তরকে বলেন, বিকেল থেকেই আমি মুছাব্বির ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম। বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে আমরা একসঙ্গে কাওরান বাজারের ১ নম্বর ডিআইপি মার্কেটে যাই। এরপর কাজীপাড়ায় এসে মুছাব্বির ভাই মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিল উপলক্ষে তিনি স্টার হোটেলে তাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর এবং ঢাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে হোটেলের দোতলায় একটি সভা শুরু করেন। সভা শেষ করে রাত আনুমানিক আটটার দিকে মুছাব্বির ভাই নিচে নামেন। তখন স্টার হোটেলের সামনে আমি, সুফিয়ান বেপারী, মাসুদ ও নুর আলম মিলন ভাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় মুছাব্বির ভাইয়ের পরিচিত এক বিএনপি নেতা সামনে এলে তাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য আমি ও আরেকজন রাস্তার অপর পাশে ওয়াসা ভবনের তলায় যাই। ওই সময় মুছাব্বির ভাই ও মাসুদ স্টার হোটেল থেকে তাঁর বাসার উদ্দেশ্যে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে কাজীপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ মাসুদ আমাকে ফোন করে জানায় যে, তাদের দুজনকে গুলি করা হয়েছে এবং দ্রুত সাহায্য করতে বলে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি মুছাব্বির ভাই একটি ভ্যানের ওপর পড়ে আছেন এবং মাসুদ আরেকটি ভ্যানের ওপর পড়ে আছেন। দুজনেরই পেটে গুলি লেগেছিল। মুছাব্বির ভাইয়ের শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তখন আমি তাঁর পেটে চাপ দিয়ে ওই ভ্যানেই করে দ্রুত মুছাব্বিরকে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

ধানমন্ডিতে মারধরের শিকার সেই নারীকে জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছিলেন এক নারী। এক তরুণীর লাঠি দিয়ে মধ্যবয়সী ওই নারীকে পেটানোর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। মারধরের শিকার ওই নারীকে আজ শুক্রবার গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। ধানমন্ডি থানা–পুলিশ আজ বিকেলে সালমা ইসলাম নামের এই নারীকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সালমা ইসলামের আইনজীবী আবুল হোসেন পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন তাঁর মক্কেলকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। অপর দিকে তাঁরা জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪২ বছর বয়সী সালমা ইসলাম আজিমপুরে বসবাস করেন। তিনি একজন গৃহিণী। গতকাল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে হামলার শিকার হন তিনি। সালমা ইসলামকে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার পর ওনাকে মারধর করা হয়। সেখান থেকে কয়েকজন তাঁকে আমাদের হাতে সোপর্দ করে।’ সালমা ইসলামকে গত বছরের ১৯ জুলাই সরকারবিরোধী আন্দোলন চলার মধ্যে ধানমন্ডিতে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। গতকাল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে ওই নারীকে পেটানোর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া গত বছরের ১ ডিসেম্বর হওয়া ওই মামলার ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেছেন, এ মামলার বাদী ইউরোপিয়ান ইউনির্ভাসিটির বিবিএ তৃতীয় বর্ষের একজন ছাত্র। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলা অবস্থায় শুরু থেকে বাদী আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে বাদী ও আরও অনেকে ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে মিছিল করছিলেন। এ সময় কতিপয় আসামিদের নির্দেশে অন্য আসামিরা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ–সহযোগী ও ১৪–দলীয় জোটের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, কাটা রাইফেল, পিস্তল, দেশি রামদা, চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল, রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সুসজ্জিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের তাঁদের ন্যায্য দাবি থেকে উৎখাত করার লক্ষ্যে অনবরত গুলিবর্ষণ করতে থাকে। একটি গুলি বাদীর পিঠে লেগে পেট দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নেন। মামলা করার সময় আসামির তালিকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এ মামলা হওয়ার পর এর তদন্তভার গ্রহণ করেন উল্লেখ করে সালমা ইসলামকে নিয়ে আদালতে দেওয়া আবেদনে এসআই আনোয়ার লিখেছেন, ‘অত্র মামলাটির তদন্তকালে তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণে অত্র মামলার ঘটনার সহিত উপরিউক্ত গ্রেপ্তারকৃত আসামি জড়িত মর্মে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়।’ তদন্ত কর্মকর্তার এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন সালমা ইসলামের আইনজীবী আবুল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি (সালমা ইসলাম) আবেগের বশে গতকাল দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় “জয় বাংলা” স্লোগান দেন। সেখানে ওনার ওপর মব সৃষ্টি করে মারধর করা হয়। ভুক্তভোগী হওয়ার পরও ওনাকে আজ আদালতে আনা হয়েছে। জুলাইয়ের হত্যাচেষ্টা মামলা দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায় হয়েছে। যে অপরাধ উনি করেননি, সে মামলায় ওনাকে আসামি করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’ সালমা ইসলামকে কেন এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, সে প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন স্যারদের নির্দেশে ওনাকে এ মামলায় গ্রেপ্তর দেখানো হয়েছে। এ মামলায় ওনার সম্পৃক্ততার ব্যাপারে কয়েকজন সাক্ষ্য দিয়েছে। তাদের সাক্ষ্যের আলোকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’ যাঁরা সালমা ইসলামকে আপনার হাতে তুলে দিয়েছেন, তাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন কি না, সে প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তাঁরা ছাড়াও অন্য সাক্ষীরা বলেছেন।’  

শাকিব খানের নায়িকা হতে যাচ্ছেন হানিয়া আমির

গেল কয়েক বছরে শাকিব খান যেন ভিন্ন রূপে আছেন। নিজেকে অনেকটাই বদলেছেন এবং বিভিন্ন ধরনের সিনেমায় নিজেকে প্রমাণও করছেন। তার নতুন লুক, গেটআপ এবং উপস্থাপনায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে শাকিব তার আসন্ন সিনেমা ‘সোলজার’ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। খবর পাওয়া গেছে যে, শাকিব খান তার পরবর্তী সিনেমায় পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমিরকে তার বিপরীতে তুলে ধরবেন। এই তথ্য নিজেই নিশ্চিত করেছেন শাকিব। সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান দ্য ছোট ভাইয়ের একটি ভিডিওতে শাকিব বলেন, ‘তোমার অনেকগুলো ভ্লগ দেখলাম, আমার ভবিষ্যৎ হিরোইনের সঙ্গে, হানিয়ার সঙ্গে।’ এরপরে এক প্রশ্নের উত্তরে শাকিব জানান, ‘একটি সিনেমার জন্য তার সঙ্গে কথা চলছে।’

হাদির জন্য কাঁদছে পুরো বাংলাদেশ

পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনি গণসংযোগে গিয়ে গুলিবিদ্ধ স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে তার অস্ত্রোপচার চলছে।   তরুণ এই রাজনীতিক ও অ্যাক্টিভিস্টের সুস্থতা কামনায় দোয়া করছে দেশবাসী। সেই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।   ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, তরুণ রাজনীতিক ও অ্যাক্টিভিস্ট শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। আল্লাহ তাকে সুস্থভাবে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন।   অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, হাদি ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বেঁচে থাকুন, আমাদের মাঝে ফিরে আসুন- এই দোয়া করুন সবাই। সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের তফশিলের পরপরই এরকম ঘটনা অশনিসংকেত। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করুন।   হাদির সঙ্গে নিজের স্মৃতিচারণ করে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ডা. আসিফ সৈকত বলেছেন, তার সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে ইনবক্সে, মেসেঞ্জারে। ছোটো একটা ইস্যুতে ব্লক করলো আমাকে, পরে আবার ব্লক তুলে আরেক ছোটোভাইকে দিয়ে বলালো- ‘আসিফ ভাই , হাদি ভাই বলছেন, ওনাকে ভুল না বুঝতে, দোয়া করতে।’ আমি কিছুই বললাম না। অভিমানটুকু জিইয়ে রাখলাম। বড়ভাইগিরি ফলালাম। মনটা খুব খারাপ লাগতেছে , নিজেকে অপরাধী লাগতেছে। সেরে উঠ ভাই আমার, আমার জীবনে যদি একটা ভালো কাজও করি- সেটার উছিলায় আল্লাহ তোকে সুস্থ করে দিন। বড়ভাইকে মাফ করে দিস হাদি। আল্লাহ তোর বাচ্চাটার জন্য হলেও তোকে ফিরিয়ে দিন।   ইমরুল হাসান লিখেছেন, জুলাইয়ের পরে যেই ২-৪টা জায়গা তৈরি হইছে, তার একটা হইতেছে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার, যেই ২-৪টা ভয়েস তৈরি হইছে, তার একজন হইতেছেন ওসমান হাদি! হাদিরে গুলি করা মানে হইতেছে জুলাইয়ের বুকে গুলি চালানো!   প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন বলেন, হাদিকে আল্লাহ সুস্থতা দান করুন। হাদির এমন পরিস্থিতি দেখাটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।   তরুণ আলেম ও অ্যাক্টিভিস্ট মনযূরুল হক বলেন, একটা লোক দিনের পর দিন হুমকি পেয়েছে, প্রকাশ্যে একাধিকবার সে-কথা সে বলেছেও, তার জন্য সরকার কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই নাই। এই দায় সরকার এড়াবে কী করে? জুলাইয়ের সন্তানদের মূল্য সরকারের কাছে কী, শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার যন্ত্র মাত্র?   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের) বলেন, আমার ভাই ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঢামেকের ইমার্জেন্সিতে ভর্তি এখন। খাস করে দোয়া চাই সবার।   হাদির সুস্থতা কামনা করে এনসিপি নেতা সারজিস পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেন, ‘হে আল্লাহ, আমাদের ন্যায় ও ইনসাফের পথের সহযোদ্ধা ওসমান হাদি ভাইকে হেফাজত করুন।’   সিনিয়র সাংবাদিক হাসান আদিল সিদ্দিকী বলেছেন, হাদি, আমার ভাই, আমাদের ভাই।তার কিছু হলে তোমাদের রক্ষা নাই।জুলাইয়ে পর যখন সবাই যে যার হিস্যা বুঝে নিয়েছেন তখন হাদি ভাই বেছে নিয়েছিলেন সবচেয়ে সংগ্রামের পথ। নিজেকে নিয়োজিত করলেন জাতি গঠনের কাজে। তিনি রঠা সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে পোস্টারবয় হয়ে উঠেছিলেন। আমরা তাকে ইসলামি জাগরণের অগ্রসৈনিক মেনে নিয়েছিলাম। তাকেই আজ স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ইসলামের হয়ে কথা বলাটা এখনো নিরাপদ নয়। গুলি, খুন, অব্যাহত অপপ্রচারের মাধ্যমে এই দেশে ইসলামের জাগরণ ঠেকানো যাবে না।   এদিকে হাদিকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এনসিপি নেতা ও জুলাইযোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লাহ।তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।   নুর মোহাম্মদ লিখেছেন, ‘হে কাবার মালিক হে আসমান–জমিনের মালিক হে জীবন দানকারী ও জীবন গ্রহণকারী তোমার অসীম কুদরতি শক্তির বরকতে আমার ভাই ওসমান হাদিকে পূর্ণ সুস্থতা দান করো।   ওয়ালিদ হোসাইন সবুজ লিখেছেন, গুলির আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয় যে জীবন; সে জীবন জনতার, সে জীবনই জয় করে ভূবন। হাদি আপনি পারবেন, আপনাকে পারতেই হবে।   মো. আব্দুল্লাহ লিখেছেন, যারা মরার জন্য জন্ম নেয় তারা মৃত্যুকে ভয় করে না। তফশিল ঘোষণার একদিনের মধ্যে জুলাইয়ের অন্যতম নায়ক ওসমান হাদি আক্রান্ত হলেন! আমরা দোয়া করছি- আল্লাহ হাদি ভাইকে সুস্থতা এবং নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করে রাখুন। রাষ্ট্রকে যারা অকার্যকর করতে চাচ্ছে, তাদের লাগাম টেনে ধরার সময় এখনই।   মুসতাকিন মিয়া বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে অকুতোভয় সৈনিক আমাদের প্রিয় হাদি ভাই। আল্লাহ তাকে সকল ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন।

‘ওয়াশরুম ভিডিও’ প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মিথিলা

‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসর। এবারের আসরে ১২১টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে সগৌরবে প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশের তানজিয়া জামান মিথিলা। থাইল্যান্ডে শুরু হওয়া এ আসরে ইতোমধ্যে ভোটের তালিকায় ২য় অবস্থানে উঠে এসেছেন মিথিলা।  আগামী ২১ নভেম্বর থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় শহর পাক ক্রেটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৭৪তম আসরের জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে।  গত সেপ্টেম্বরে ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’-এর মুকুট জেতার পর দেশের পতাকা হাতে গত অক্টোবরের শেষ দিকে তিনি থাইল্যান্ডে মূল মঞ্চে উড়ে গিয়েছেন। তবে মূল প্রতিযোগিতায় নামার আগে পুরোনো একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের বিতর্কের মুখে পড়লেন এই মডেল। পুরোনো সেই বিতর্কিত ‘ওয়াশরুম ভিডিও’ প্রসঙ্গে সম্প্রতি লাইভে এসে মুখ খুলেছেন মিথিলা। নেটিজেনদের ক্রমাগত নেতিবাচক প্রচারণায় তিনি রীতিমতো বিব্রত। লাইভে মিথিলা প্রথমে স্বীকার করেন যে ঘটনাটি বহু বছর আগেরপ্রায় সাত থেকে আট বছর পুরোনো। তিনি দাবি করেন, যখন ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন তারা সবাই ছোট ছিলেন এবং এটি একটি ‘প্র্যাঙ্ক’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। বিতর্কিত ভিডিওটি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের প্রথমে যেটা বলতে চাই, যখন ঘটনাটি ঘটেছিল, তখন আমরা ছোট ছিলাম। ওই ঘটনাটা যখন ভাইরাল হয়, একদল মানুষ বলে, আমি সেক্সুয়ালি তাকে হ্যারাস করেছি। তার আগে বলি, যে মানুষটা ওয়াশরুমে ছিল, সে কিন্তু আমাদের বন্ধু ছিল। আমরা জিনিসটাকে প্র্যাঙ্কের মতো করে দেখিয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ওখানে ছিলাম, ওখানে আপনারা আমাকে দোষ দিতে পারেন না। আপনারা যেহেতু জিনিসটাকে এত বড় করেছেন। ফেসবুকে অনেকবার বলেছি, আমাকে দয়া করে ক্ষমা করে দিয়েন। আমি ছোট ছিলাম বুঝিনি, বোকার মতো কাজটা করেছি।’ নেটিজেনদের তিনি বলেন, ‘আপনারা ৭/৮ বছরের পুরোনো ভিডিওতে আমাকে নিয়ে নেগেটিভ পাবলিসিটি করছেন। আমাকে নেগেটিভ পাবলিসিটি করলে (প্রতিযোগিতায়) জিততে পারবো না, আমাকে জেতাবে না এরা।’

Top week

রাজধানী

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা

দেখো নিউজ ডেস্ক জানুয়ারী ৮, ২০২৬ 0

Voting poll

আপনার মতামত