ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ২৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার কিছু পরে রাজধানীর ফার্মগেটে স্টার হোটেলের সামনে গুলির ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আজিজুল হক মোসাব্বিরকে উদ্ধার করে নিকটস্থ বিআরবি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পেটে তিন রাউন্ড গুলি লেগেছিল। এ ঘটনায় সুফিয়ান বেপারি (মাসুদ) নামে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সুফিয়ান বেপারি (মাসুদ) কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনিও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ এডিসি ফজলুল করিম গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজিজুল হক মোসাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম বলেন, স্টার কাবাবের পাশের ওই গলিতে দুজনকে গুলি করা হয়েছে। এদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আজিজুল হক মোসাব্বিরকে গুলি করে। প্রাথমিকভাবে তাকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেখানে তার দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। গুলিবিদ্ধ নেতার ভর্তির ঘটনায় বিআরবি হাসপাতালের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে রাস্তা সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে গেছে। ৫০-৬০জন নেতাকর্মী তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে সোনারগাঁও ক্রসিং এর ইনকামিং এ অবস্থান নিয়েছে। সোনারগাঁও ক্রসিং এর ইনকামিং বন্ধ আছে। তেজগাঁও থানা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ মিলন যুগান্তরকে বলেন, বিকেল থেকেই আমি মুছাব্বির ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম। বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে আমরা একসঙ্গে কাওরান বাজারের ১ নম্বর ডিআইপি মার্কেটে যাই। এরপর কাজীপাড়ায় এসে মুছাব্বির ভাই মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিল উপলক্ষে তিনি স্টার হোটেলে তাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর এবং ঢাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে হোটেলের দোতলায় একটি সভা শুরু করেন। সভা শেষ করে রাত আনুমানিক আটটার দিকে মুছাব্বির ভাই নিচে নামেন। তখন স্টার হোটেলের সামনে আমি, সুফিয়ান বেপারী, মাসুদ ও নুর আলম মিলন ভাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় মুছাব্বির ভাইয়ের পরিচিত এক বিএনপি নেতা সামনে এলে তাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য আমি ও আরেকজন রাস্তার অপর পাশে ওয়াসা ভবনের তলায় যাই। ওই সময় মুছাব্বির ভাই ও মাসুদ স্টার হোটেল থেকে তাঁর বাসার উদ্দেশ্যে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে কাজীপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ মাসুদ আমাকে ফোন করে জানায় যে, তাদের দুজনকে গুলি করা হয়েছে এবং দ্রুত সাহায্য করতে বলে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি মুছাব্বির ভাই একটি ভ্যানের ওপর পড়ে আছেন এবং মাসুদ আরেকটি ভ্যানের ওপর পড়ে আছেন। দুজনেরই পেটে গুলি লেগেছিল। মুছাব্বির ভাইয়ের শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তখন আমি তাঁর পেটে চাপ দিয়ে ওই ভ্যানেই করে দ্রুত মুছাব্বিরকে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে বলে বৈঠকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা । রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গতকাল এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় এ বৈঠকের বিষয়ে জানিয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন, আসন্ন বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়াও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহিদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্তদের গ্রেফতার ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়, সম্প্রতি দুটি জাতীয় দৈনিক ও দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতোমধ্যে ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা হলেন— মো. কাশেম ফারুকি, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, মো. সোহেল রানা এবং মো. শফিকুল ইসলাম। বাকি সন্দেভাজনদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। এ ছাড়াও চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের নিকটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের মধ্যে তিনজনকে ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। বৈঠকে ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত এবং অন্যান্য বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্তদের দ্রুততার সঙ্গে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই বাণিজ্য পরিচালনার জন্য বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ— সৌদি রিয়াল: ৩২.৫৯ টাকা মালয়েশিয়ান রিংগিত: ২৯.৯৬ টাকা সিঙ্গাপুর ডলার: ৯৪.৫১ টাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত দেরহাম: ৩৩.২৮ টাকা কুয়েতি দিনার: ৩৯৭.৯৩ টাকা মার্কিন ডলার: ১২২.২২ টাকা ব্রুনাই ডলার: ৯৪.৫১ টাকা দক্ষিণ কোরিয়ান উন: ০.০৮ টাকা জাপানি ইয়েন: ০.৭৯ টাকা ওমানি রিয়াল: ৩১৭.৪৮ টাকা লিবিয়ান দিনার: ২২.৫৪ টাকা কাতারি রিয়াল: ৩৩.৫৮ টাকা বাহরাইন দিনার: ৩২৫.০৮ টাকা কানাডিয়ান ডলার: ৮৮.৫৯ টাকা চাইনিজ রেনমিনবি: ১৭.৩৫ টাকা ইউরো: ১৪৩.১৬ টাকা অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ৮০.৮৩ টাকা মালদ্বীপিয়ান রুফিয়া: ৭.৯১ টাকা ইরাকি দিনার: ০.০৯ টাকা দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড: ৭.২৮ টাকা ব্রিটিশ পাউন্ড: ১৬৩.৫৫ টাকা তুর্কি লিরা: ২.৮৫ টাকা ভারতীয় রুপি: ১.৩৫ টাকা
ডিসেম্বর ২২, ২০২৫
বিদেশে বিভিন্ন বাংলাদেশি দূতাবাসে থাকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কমার্শিয়াল উইংগুলোকে একীভূত করে একটি স্বতন্ত্র ট্রেড প্রমোশন এজেন্সি বা বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা গঠনের প্রস্তাব করেছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। হাসান আরিফ বলেন, ‘আমাদের দেশের বাইরে বিভিন্ন দূতাবাসে কমার্শিয়াল উইং আছে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় এই কমার্শিয়াল উইংগুলো কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে, তা নিয়ে একজন সাবেক কমার্শিয়াল কাউন্সিলর হিসেবে আমার নিজেরই সন্দেহ আছে। এ কারণে অন্যান্য দেশের মতো করে এসব কমার্শিয়াল উইংসহ ইপিবিকে একটি আলাদা ট্রেড প্রমোশন এজেন্সি করা সময়ের দাবি হয়ে গেছে।’ আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন মোহাম্মদ হাসান আরিফ। গোলটেবিল বৈঠক আয়োজনে সহায়তা করেছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান, বার্জার পেইন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালি চৌধুরী, রেনাটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ এস কায়সার কবির, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন (এইচএসবিসি) বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব উর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) সায়েমা হক বিদিশা, চামড়া পণ্য, জুতা উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সমিতির (এলএফএমইএবি) সহসভাপতি মো. নাসির খান, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহজাহান চৌধুরী ও বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামিম আহমেদ। ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, একজন কমার্শিয়াল কাউন্সিলর চার বছর (দূতাবাসে) কাজ করে কাজ শেখেন। এরপর দেশে ফিরে উপসচিব হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ আমাদের কমার্শিয়াল উইংগুলোতে কোনো রকম কার্যকর উন্নয়ন হচ্ছে না। ফলাফলও তাই খুবই দুর্বল। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি (কোট্রা) বা মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (ম্যাট্রেড) মতো বাংলাদেশেও একটি স্বতন্ত্র ট্রেড প্রমোশন এজেন্সি করার সময় হয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তিনি বলেন, এই সংস্থা ইপিবি ও কমার্শিয়াল উইংগুলোকে সমন্বয় করে এবং বিদেশে অবস্থান করে শুধু বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রমোশনের কাজ করবে। বেসরকারি খাতকে কীভাবে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যায়, সেটিও গুরুত্বসহকারে ভাবতে হবে। রপ্তানিবিরোধী মনোভাব দূর করতে হবে নতুন বাজার খুঁজে বের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ। তিনি বলেন, পণ্য বৈচিত্র্যকরণের পাশাপাশি নতুন বাজার শনাক্ত করা এবং পণ্যের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে রপ্তানি বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজার অনুসন্ধানে সরকার, ইপিবি এবং উদ্যোক্তাদের যৌথভাবে এগোতে হবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর করতে হবে। যে অঞ্চলগুলোতে এখনো আমরা খুব বেশি প্রবেশ করতে পারিনি, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আসিয়ান বা দক্ষিণ আমেরিকার মতো দেশগুলোতে নজর দেওয়া প্রয়োজন। তৈরি পোশাক পণ্য নিয়েও নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক রপ্তানি কি শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ইইউর ওপর নির্ভর থাকবে, নাকি নতুন বাজার খুঁজবে, সেটি ভাবতে হবে। হাই ভ্যালু প্রোডাক্ট ও ম্যানমেড ফাইবারের দিকে রূপান্তরের মাধ্যমেও তৈরি পোশাক খাতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। হাসান আরিফ বলেন, একজন ভোক্তা হিসেবে আমি চাইব দেশে ভালো মানের পণ্য কম দামে পাওয়া যাক। এর জন্য অর্থনীতিতে বিদ্যমান অ্যান্টি-এক্সপোর্ট বায়াস (রপ্তানিবিরোধী মনোভাব) দূর করা জরুরি। উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতাপূর্ণ পণ্য তৈরি করতে হবে। তাতে একদিকে রপ্তানি বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় ভোক্তাও উপকার পাবে।
ডিসেম্বর ১০, ২০২৫
মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারকারীদের মধ্যে ভুল নম্বরে টাকা পাঠানোর সমস্যা একটি সাধারণ বিষয়। বিশেষ করে বিকাশ ব্যবহারকারীরা এ ধরনের ভুলে প্রায়ই পড়েন। তবে, বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব। পরিস্থিতি ১: প্রাপক যদি নন-বিকাশ ব্যবহারকারী হন যদি টাকা এমন একটি নম্বরে চলে যায় যা বিকাশে রেজিস্টার করা নেই, তবে সহজেই অ্যাপের মাধ্যমে টাকা ফেরত নেওয়া যেতে পারে। এর জন্য যে ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে: > অ্যাপে গিয়ে “সেন্ড মানি” অপশনে যান। > সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পাশে “নন-বিকাশ” লেখা দেখা যাবে। > সেখানে ট্যাপ করে “Cancel” বা বাতিল করার অপশন নির্বাচন করুন। > 'হ্যাঁ' নির্বাচন করলে টাকা তাৎক্ষণিকভাবে আপনার অ্যাকাউন্টে ফিরে আসবে। এটি শুধুমাত্র তখনই প্রযোজ্য, যখন প্রাপকের নম্বর বিকাশে রেজিস্টার না করা থাকে। পরিস্থিতি ২: প্রাপক যদি সক্রিয় বিকাশ ব্যবহারকারী হন যদি টাকা ইতোমধ্যে একটি সক্রিয় বিকাশ অ্যাকাউন্টে চলে যায়, তবে সরাসরি অ্যাপ থেকে টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বিকাশ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে: > হেল্পলাইন ১৬২৪৭-এ কল করা বা নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করা। > লেনদেনের তারিখ ও সময়, প্রেরক ও প্রাপকের নম্বর, পাঠানো টাকার পরিমাণ এবং লেনদেনের স্ক্রিনশট জমা দিতে হবে। > এরপর বিকাশ কর্তৃপক্ষ প্রাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। > যদি প্রাপক টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন, তবে ভুক্তভোগী আইনি সহায়তার জন্য ব্যবস্থা নিতে পারেন। বিকাশ ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, লেনদেনের আগে প্রাপকের নম্বর যাচাই করে নেওয়া, অন্য কারো ফোন ব্যবহার না করা এবং সেন্ড মানি করার সময় প্রাপকের নাম নিশ্চিত করা। বিকাশ জানিয়েছে, ভুল নম্বরে টাকা পাঠালেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নিলে টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব।
মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন, ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট সেবার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নতুন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘অ্যামাজন লিও’ চালু করেছে। এই সেবাটি বিশ্বের দ্রুততম বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা হিসেবে পরিচিত, যা স্টারলিংকের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বলে দাবি করছে অ্যামাজন। অ্যামাজনের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে বর্তমানে ১৫০টি স্যাটেলাইট রয়েছে, যা স্টারলিংকের প্রায় ৮,০০০ স্যাটেলাইটের তুলনায় অনেক কম। তবে, অ্যামাজনের দাবি, তাদের স্যাটেলাইটগুলো নতুন ‘লিও আল্ট্রা অ্যান্টেনা’ ব্যবহারের মাধ্যমে এক গিগাবিট পার সেকেন্ড ডাউনলোড গতি দিতে সক্ষম, যা স্টারলিংকের তুলনায় পাঁচগুণ দ্রুত। স্টারলিংক বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ গ্রাহককে সেবা প্রদান করছে, তবে তারা ২০২৬ সালের মধ্যে এক গিগাবিট গতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে, অ্যামাজন লিও সেবা কিছু ব্যবসায়ী গ্রাহকদের জন্য উপলব্ধ, তবে আগামী বছরে এটি আরও বিস্তৃত পরিসরে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অ্যামাজন ভবিষ্যতে ৩,২৩৬টি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা করছে, যখন স্পেসএক্স তাদের স্টারলিংক নেটওয়ার্ক ১২,০০০ স্যাটেলাইটে উন্নীত করতে চায়। অ্যামাজনের প্রাথমিক গ্রাহকদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব শক্তি কোম্পানি ‘হান্ট এনার্জি নেটওয়ার্ক’, তারবিহীন যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ‘ভানু ইনকর্পোরেটেড’, এবং এয়ারলাইন ‘জেটব্লু’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অ্যামাজন জানিয়েছে, সেবাটি সীমিত আকারে চালু করার উদ্দেশ্য হচ্ছে নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা এবং এটি বিভিন্ন শিল্পে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা পর্যবেক্ষণ করা।
প্রাণীরা ভূমিকম্প আগাম টের পায়— এ ধারণাটি বহুদিনের প্রচলিত বিশ্বাস হলেও এখনো এর পক্ষে স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মেলেনি। তবুও নানা অভিজ্ঞতা, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা এই প্রশ্নকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছে—প্রাণীরা কি সত্যিই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগাম টের পায়? দুর্যোগের ক্ষতি এড়ানো বন্যপ্রাণীর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টিকে থাকার কৌশল। তাই তারা নিজেদের সুরক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কিছু অভিযোজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে। কিছু গবেষণা ও নানা ধরনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঘটনা থেকে ধারণা করা হয় যে প্রাণীদের একটি ‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’ আছে, যা তাদেরকে বিপদ আসার আগেই সতর্ক করে। প্রাচীন গ্রিস থেকে বর্তমান পৃথিবী: গল্পের দীর্ঘ ইতিহাস খ্রিস্টপূর্ব ৩৭৩ সালে গ্রিসে বড় ভূমিকম্পের আগে ইঁদুর, বেজি, সাপ, কাঁকড়া ও বিছা তাদের গর্ত ও বাসস্থান ছেড়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে—এমন বর্ণনা ইতিহাসে রয়েছে। শত শত বছর ধরে এমন গল্প বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়েও মাছ, পাখি, গৃহপালিত পশু থেকে শুরু করে বন্যপ্রাণীর অস্বাভাবিক নড়াচড়ার বহু গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে। তবে এসব অভিজ্ঞতা যতই বিস্ময় জাগাক, বিজ্ঞানীরা সতর্ক—আখ্যান আর প্রমাণ এক জিনিস নয়। বিজ্ঞান কী বলছে? ভূমিকম্পে দুটি তরঙ্গ তৈরি হয়—ছোট ‘পি’-ওয়েভ এবং বড় ‘এস’-ওয়েভ। বৈজ্ঞানিকভাবে বহু গবেষণা দেখায়—প্রাণীরা ভূমিকম্প ঘটার কয়েক সেকেন্ড আগে ক্ষুদ্র ‘পি’-ওয়েভ অনুভব করতে পারে। দ্রুতগতির ‘পি’-ওয়েভ তরল, কঠিন ও গ্যাস—সবকিছুর মধ্য দিয়ে যেতে পারে, যেখানে এস-ওয়েভ শুধু কঠিনের মধ্য দিয়ে যায় এবং যে ‘ধাক্কা’ মানুষ অনুভব করে তা মূলত ‘এস’-ওয়েভের প্রভাব। ছবি: সংগৃহীত খুব নগণ্য সংখ্যক মানুষও ‘পি’-ওয়েভ অনুভব করতে পারলেও বেশ কিছু প্রাণী ঘ্রাণ, স্পর্শ বা শ্রবণশক্তির মাধ্যমে এটি টের পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তাই অনেক প্রাণী ভূমিকম্পের ঠিক আগে অস্থির হয়ে ওঠে। কিন্তু এটি কয়েক সেকেন্ড আগাম সতর্কতা মাত্র—ঘণ্টা কিংবা দিন নয়। প্রথম গবেষণা শুরু করে চীনে ১৯৬৬ সালের ৮ মার্চ সকালে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প চীনের শিনতাই শহরে (বেইজিং থেকে প্রায় ২২০ মাইল দক্ষিণে) আঘাত হানে। ভোরে ঘুমন্ত মানুষের ওপর বাড়িঘর ধসে পড়ে। এ ঘটনায় প্রায় ৮ হাজার মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি আহত হয়। ১৯৪৯ সালের কমিউনিস্ট বিপ্লবের পর জনবহুল এলাকায় এটিই ছিল প্রথম বড় ভূমিকম্প, তাই রাজনৈতিক নেতৃত্ব ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখে। পরদিনই বিজ্ঞানীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। ভূ-ভৌতবিদ, ভূতাত্ত্বিক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের গবেষকরা অনুসন্ধান শুরু করেন। পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ ধরে গবেষকেরা মাঠপর্যায়ে সাক্ষাৎকার ও তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় ভূমিকম্পের আগাম লক্ষণ নিয়ে অসংখ্য মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণীর অস্বাভাবিক আচরণের বহু বর্ণনাও সামনে আসে। ২৩ মার্চ আরেকটি বড় কম্পনের পর চীনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব বায়োফিজিক্সের গবেষকেরা শিনতাইয়ে পৌঁছে প্রাণীর অস্বাভাবিক আচরণ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। তারা প্রায় দুই মাস ধরে আশপাশের বিভিন্ন কমিউন ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেন। ১৯৬৬ সালের মে মাসে শিনতাইয়ে প্রথম প্রাণী-পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। এর আগে প্রাণীদের আচরণবিষয়ক গবেষণা মূলত ঘটনার পর মানুষের স্মৃতিনির্ভর ছিল। নতুন কেন্দ্রটি নিয়মিত ও পদ্ধতিগতভাবে প্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করে। এখানে গবেষণা ও ভূমিকম্প পূর্বাভাস দুটোই চলত। ছবি: সংগৃহীত বেইজিংয়ের গবেষণাগার থেকে পিকিনিজ কুকুর, বানর, বড় সাদা মুরগি, ইঁদুর নিয়ে আসা হয়—সব মিলিয়ে কেন্দ্রটি একটি ছোট চিড়িয়াখানার মতো হয়ে ওঠে। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে বায়োফিজিক্স, জুলজি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত হয় ‘ভূমিকম্প জীববিজ্ঞান গবেষণা দল’। তারা শিনতাই অঞ্চলে আরও কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করে বিভিন্ন প্রাণীর ওপর গবেষণা চালান। এরপর চীনা বিজ্ঞানীরা পরে ব্যাপক পরিমাণে পরিসংখ্যান, চার্ট, ডায়াগ্রাম, শতকরা হিসাব ইত্যাদি ব্যবহার করে তথ্যকে পরিমাণগত রূপ দেন। ক্লাস্টার বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন পরিসংখ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রাণীর আচরণ নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়। চীনা বিজ্ঞানীদের মতে, পতঙ্গ ও কীটপতঙ্গ খুবই কম সংখ্যক ক্ষেত্রে আচরণগত সংকেত দেখায়। মাছ তুলনামূলক বেশি প্রতিক্রিয়া দেখালেও তাদের আচরণ—যেমন সাঁতার বা লাফ—ব্যাখ্যা করা কঠিন। ইতালিতে নজিরবিহীন গবেষণা জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অব অ্যানিম্যাল বিহেভিয়রের বিজ্ঞানী মার্টিন ভিকেলস্কি এই বিষয়ে ব্যতিক্রমী এক গবেষণা পরিচালনা করেন। ইতালির ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে তিনি ছয়টি গরু, পাঁচটি ভেড়া ও দুটি কুকুরের শরীরে বিশেষ সেন্সর স্থাপন করেন এবং কয়েক মাস ধরে তাদের আচরণ বিশ্লেষণ করেন। ছবি: সংগৃহীত ফলাফল বিস্ময়কর—ভূমিকম্পের প্রায় ২০ ঘণ্টা আগে প্রাণীগুলোর সক্রিয়তা স্পষ্টভাবে বেড়ে যায়। তারা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি নড়াচড়া করে, বিশেষত ৪৫ মিনিটের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমায়। তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা ৪.০ মাত্রার ওপরে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প সঠিকভাবে আগাম পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হন। আটটি বড় ভূমিকম্পের মধ্যে সাতটি সঠিকভাবে শনাক্ত হয়। এই ফলাফল গবেষকদের নতুন প্রশ্নে নিয়ে যায়—প্রাণীদের কি সত্যিই এমন জিনগত প্রবণতা আছে যা তাদের ভূমিকম্পের আগাম ইঙ্গিত দেয়? বিবর্তনের ধারায় কি তারা এমন প্রবৃত্তি গড়ে তুলেছে, যা বিপদ এড়ানোর প্রাকৃতিক প্রবণতার অংশ হয়ে উঠেছে? গবেষকদের মধ্যে দ্বিমত, বিতর্ক থামেনি তবে এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের নিজেদের মধ্যেই ঐকমত্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী হুইট গিবন্স বলেন—মানুষের উচিত ভূমিকম্প শনাক্তকরণে বিজ্ঞানীদের সিসমিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রাখা, প্রাণীর আচরণের নয়। ছবি: সংগৃহীত অন্যদিকে ১৮০টি বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ১৬০টি ভূমিকম্পের আগে প্রাণীদের ৭০০টির বেশি অস্বাভাবিক আচরণের নথি—যা একধরনের সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। যদিও এখনো এটি নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণীদের বেঁচে থাকার কৌশল বিজ্ঞানীরা মনে করেন—বিপদ এড়ানো প্রাণীদের হাজার বছরের বিবর্তনধর্মী দক্ষতা। অগ্নিকাণ্ডের আগে পাখির হঠাৎ উড়ে যাওয়া, ঝড়ের আগে পোকামাকড়ের গর্তে ঢুকে পড়া বা সুনামির আগে বন্যপ্রাণীর উঁচু ভূমির দিকে ছুটে যাওয়া—এসব আচরণ প্রাকৃতিক প্রবৃত্তিরই অংশ। প্রাণীরা হয়তো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সব ধরনের আগাম সংকেত পায় না, তবে পরিবেশের ক্ষুদ্রতম পরিবর্তন—বায়ুচাপ, কম্পন, শব্দ বা গন্ধ—মানুষের তুলনায় তারা অনেক দ্রুত শনাক্ত করতে পারে। ছবি: সংগৃহীত আগাম সতর্কতার ভবিষ্যৎ: প্রাণী কি হতে পারে ‘লাইভ অ্যালার্ম সিস্টেম’? বিশ্বের নানা দেশে এখন প্রাণীদের ওপর সেন্সর লাগিয়ে রিয়েল-টাইম ডেটা সংগ্রহের প্রকল্প চলছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন—প্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণ একদিন ভূমিকম্প সতর্কতা ব্যবস্থার অংশ হতে পারে। আবার অনেকে সতর্ক করছেন—এটি এখনো প্রমাণিত বিজ্ঞান নয়, তাই শুধুমাত্র প্রাণীর আচরণের ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক। প্রাণীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি পূর্বাভাস দিতে পারে—এমন দাবি এখনো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক সমর্থন পায়নি। তবে প্রাণীদের অস্বাভাবিক আচরণ, বিবর্তনজনিত প্রবৃত্তি এবং সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দেয়—তাদের সংবেদনশীলতা মানবজাতির জন্য ভবিষ্যতে নতুন আলোচনার পথ খুলতে পারে। তথ্যসূত্র: সাইয়েন্স ডিরেক্ট, বিবিসি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ২৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার কিছু পরে রাজধানীর ফার্মগেটে স্টার হোটেলের সামনে গুলির ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় আজিজুল হক মোসাব্বিরকে উদ্ধার করে নিকটস্থ বিআরবি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার পেটে তিন রাউন্ড গুলি লেগেছিল। এ ঘটনায় সুফিয়ান বেপারি (মাসুদ) নামে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সুফিয়ান বেপারি (মাসুদ) কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনিও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ এডিসি ফজলুল করিম গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজিজুল হক মোসাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এডিসি ফজলুল করিম বলেন, স্টার কাবাবের পাশের ওই গলিতে দুজনকে গুলি করা হয়েছে। এদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম তেজতুরী বাজার এলাকায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আজিজুল হক মোসাব্বিরকে গুলি করে। প্রাথমিকভাবে তাকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সেখানে তার দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। গুলিবিদ্ধ নেতার ভর্তির ঘটনায় বিআরবি হাসপাতালের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে রাস্তা সম্পূর্ণ ব্লক হয়ে গেছে। ৫০-৬০জন নেতাকর্মী তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে সোনারগাঁও ক্রসিং এর ইনকামিং এ অবস্থান নিয়েছে। সোনারগাঁও ক্রসিং এর ইনকামিং বন্ধ আছে। তেজগাঁও থানা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ মিলন যুগান্তরকে বলেন, বিকেল থেকেই আমি মুছাব্বির ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম। বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে আমরা একসঙ্গে কাওরান বাজারের ১ নম্বর ডিআইপি মার্কেটে যাই। এরপর কাজীপাড়ায় এসে মুছাব্বির ভাই মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিল উপলক্ষে তিনি স্টার হোটেলে তাঁর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর এবং ঢাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে হোটেলের দোতলায় একটি সভা শুরু করেন। সভা শেষ করে রাত আনুমানিক আটটার দিকে মুছাব্বির ভাই নিচে নামেন। তখন স্টার হোটেলের সামনে আমি, সুফিয়ান বেপারী, মাসুদ ও নুর আলম মিলন ভাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় মুছাব্বির ভাইয়ের পরিচিত এক বিএনপি নেতা সামনে এলে তাকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য আমি ও আরেকজন রাস্তার অপর পাশে ওয়াসা ভবনের তলায় যাই। ওই সময় মুছাব্বির ভাই ও মাসুদ স্টার হোটেল থেকে তাঁর বাসার উদ্দেশ্যে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে কাজীপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ মাসুদ আমাকে ফোন করে জানায় যে, তাদের দুজনকে গুলি করা হয়েছে এবং দ্রুত সাহায্য করতে বলে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি মুছাব্বির ভাই একটি ভ্যানের ওপর পড়ে আছেন এবং মাসুদ আরেকটি ভ্যানের ওপর পড়ে আছেন। দুজনেরই পেটে গুলি লেগেছিল। মুছাব্বির ভাইয়ের শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তখন আমি তাঁর পেটে চাপ দিয়ে ওই ভ্যানেই করে দ্রুত মুছাব্বিরকে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা এখন এক দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। তাঁরা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগ চাচ্ছেন। এর আগে ব্যবসায়ীরা আজ বুধবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সংস্কার, একচেটিয়া সিন্ডিকেট প্রথা বিলোপ এবং মুঠোফোনের উন্মুক্ত আমদানির সুযোগ সৃষ্টির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর তাঁরা সড়কে টায়ার ও কিছু কাঠের ফালিতে আগুন ধরিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেখানে তাঁরা একটি গাড়ি ভাঙচুর করছেন বলেও জানা গেছে। ব্যবসায়ীদের সড়ক অবরোধের কারণে ওই মোড় দিয়ে চলাচলকারী চারদিকের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে মানুষেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ আক্কাছ আলী। তিনি বলেন, মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা সার্ক ফোয়ারা মোড়ে অবরোধ করার কারণে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে লাখ লাখ ব্যবসায়ী ও তাঁদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন এ নিয়মের কারণে বিশেষ একটি গোষ্ঠী লাভবান হবে এবং বাড়তি করের চাপে গ্রাহক পর্যায়ে মোবাইলের দাম বেড়ে যাবে। বিটিআরসি ১৬ ডিসেম্বর থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ পথে মুঠোফোন আমদানির শুল্কহার কমানো ও প্রবাসীদের ফোন আনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এনইআইআরের মাধ্যমে প্রতিটি মুঠোফোনকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। এর পর থেকে অবৈধভাবে নিয়ে আসা ফোন ব্যবহার করা যাবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
বলিউডের নৃত্যশিল্পী, মডেল ও অভিনেত্রী নিধি আগারওয়াল কিছু দিন আগে নিজের সিনেমার একটি গানের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। ভেন্যু থেকে বের হওয়ার সময় ভক্ত-অনুরাগীদের কবলে পড়েন তিনি। এমনকি অভিনেত্রীর কাপড় ধরে টানাটানি শুরু হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব ও ভিড়ের মধ্যে অসভ্য আচরণে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন নিধি। এবার অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুও হেনস্তার শিকার হন। রোববার (২১ ডিসেম্বর) হায়দ্রাবাদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে যখন বেরিয়ে আসেন, তখন একই রকম ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিনেত্রীকে নিরাপত্তারক্ষীরা ঘিরে রেখেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে—কাঞ্জিভরম সিল্ক শাড়ি পরে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরোনোর সময় সামান্থাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেন ভক্ত ও আলোকচিত্রীরা। নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ঘিরে রাখলেও বিপুলসংখ্যক মানুষের চাপে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হয়। কেউ ছবি তুলতে চাইছেন, আবার কেউ একঝলক দেখতে—সব মিলিয়ে মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় ভিড়। গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় সামান্থাকে। তবে এই বিশৃঙ্খলার মাঝেও শান্ত ও সংযত ছিলেন অভিনেত্রী। ধীরে ধীরে এগোতে এগোতে ভক্তদের দিকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান তিনি। কিন্তু ভক্ত-অনুরাগীর সংখ্যা এতটাই বেশি ছিল যে, নিরাপত্তাকর্মীদের আলাদা করে পথ পরিষ্কার করতে হয় অভিনেত্রীকে গাড়িতে তোলার জন্য। উল্লেখ্য, অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু ব্যক্তিজীবনে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের উপস্থিতিতে পরিচালক রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এদিকে সামান্থাকে শিগগিরই দেখা যাবে ওয়েব সিরিজ ‘রক্ত ব্রহ্মাণ্ড’-এ। ছয় পর্বের এই সিরিজে তার বিপরীতে আছেন অভিনেতা আদিত্য রায় কাপুর। সিরিজটি পরিচালনা করেছেন রাহি অনিল বারভে, যা মারাঠি ছোটগল্প ‘বিদূষক’ অবলম্বনে নির্মিত। এ ছাড়া অভিনেত্রী কাজ করছেন নন্দিনী রেড্ডির পরিচালনায় তেলেগু সিনেমা ‘মা ইন্টি বঙ্গারাম’-এ ।
বিনোদন জগতের ছোট ও বড়পর্দার মডেল-অভিনেত্রী আফসান আরা বিন্দু একসময় নিয়মিত দেখা যেত। অসংখ্য টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু কালের বিবর্তনে আজ তিনি হারিয়ে যেতে বসেছেন। অথচ একটা সময় ছোটপর্দার পাশাপাশি বড়পর্দাতেও ছিলেন পরিচিত মুখ। ২০১৪ সালের পর বিন্দুকে আর পর্দায় দেখা যায়নি। এমনকি সামাজিক মাধ্যমেও ছিলেন অনুপস্থিত। প্রায় এক দশক পর ২০২৩ সালে ‘উনিশ২০’ নামের একটি ওয়েব ফিল্মে আরেফিন শুভর সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে নতুন রূপে ফিরে আসেন তিনি। ওয়েব ফিল্মটি দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায় এবং পুরোনো জুটির রসায়ন নতুন করে আলোচনায় আসে। তারপর আবারও বিন্দু আড়ালে চলে যান। শুরুর দিকেই তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় ‘দারুচিনি দ্বীপ’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসিত হন অভিনেত্রী। এরপর ‘পিরিতের আগুন জ্বলে দ্বিগুণ’, ‘জাগো’ এবং ‘এই তো প্রেম’–এর মতো সিনেমায় কাজ করে নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেন। ‘এই তো প্রেম’ সিনেমায় তার বিপরীতে ছিলেন ঢালিউড কিং শাকিব খান, যা বিন্দুর ক্যারিয়ারের একটি আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে। সম্প্রতি পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’র অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হয়ে এসেছিলেন আফসান আরা বিন্দু। সেখানে নিজের অভিনয়জীবন, বিরতি ও ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলেন অভিনেত্রী। একাধিক নাটকে আরেফিন শুভ-বিন্দু জুটির পর্দার রসায়ন যেমন প্রশংসিত হয়েছে, ঠিক তেমনই ব্যক্তিগতজীবন ঘিরেও একসময় প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কাজের ক্ষেত্রে দুজনের বোঝাপড়া আর অভিনয়ের স্বাভাবিকতা দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়। আরেফিন শুভর সঙ্গে পর্দার রসায়ন প্রসঙ্গে বিন্দু বলেন, পর্দায় তার সঙ্গে আমার রসায়ন অসম্ভব ভালো—এটা সত্যি। এই রসায়নটা আসে দুজনের ভালো বোঝাপড়া থেকে। তিনি বলেন, শুভসহ যাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, সবাই তার প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ ছিলেন। দর্শকদের পছন্দের বিষয়টি ‘উনিশ২০’–তেও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। প্রেম ভাঙল কেন?— সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, কেন প্রেম ভেঙে গেল—এর উত্তর আমার কাছেও নেই। দুটো মানুষের পথচলা যে একই জায়গায় শেষ হতেই হবে, এমন তো কোনো কথা নেই। তিনি বলেন, আমরা কাজ নিয়ে এতটাই মনোযোগী ছিলাম যে, এর বাইরে অতিরিক্ত কিছু ভাবার সুযোগই ছিল না। আমরা সবাই কাজটাকেই পাগলের মতো ভালোবাসতাম। ভবিষ্যতে আবার আরেফিন শুভর সঙ্গে কাজ করবেন কিনা? উত্তরে বিন্দু বলেন, সুযোগ এলে তার আগ্রহ আছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আবারও শুভর সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি। উল্লেখ্য, আফসান আরা বিন্দু ২০০৬ সালে লাক্স–চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়ে শোবিজে পা রাখেন। তার সৌন্দর্য ও সাবলীল অভিনয় আর পর্দায় স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি—সব মিলিয়ে অল্প সময়েই দর্শকদের মন জয় করে নেন অভিনেত্রী।
২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া এবং বক্স অফিসে ঝড় তোলা বলিউড সিনেমা 'থ্রি ইডিয়টস' আজও সিনেপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। রাজকুমার হিরানি পরিচালিত সেই ব্লকবাস্টার ছবিতে র্যাঞ্চো, রাজু আর ফারহানের বন্ধুত্ব মুগ্ধ করেছিল দর্শকদের। দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার সুখবর এলো, খুব শিগগিরই মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবির সিক্যুয়েল। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিচালক রাজকুমার হিরানি নাকি 'থ্রি ইডিয়টস'-এর দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে আসার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছেন। এই সিক্যুয়েলে কাস্টিংয়ে কোনো পরিবর্তন আসছে না। আগের মতোই র্যাঞ্চোর ভূমিকায় আমির খান এবং তার বিপরীতে পিয়া শাস্ত্রবুদ্ধি চরিত্রে দেখা যাবে কারিনা কাপুরকে। অন্যদিকে, র্যাঞ্চোর দুই প্রিয় বন্ধু রাজু রস্তোগি ও ফারহানের চরিত্রে ফের জুটি বাঁধছেন যথাক্রমে শরমন যোশি ও আর মাধবন। বর্তমানে চিত্রনাট্যের কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রথম ছবির শেষে নিজের বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসে র্যাঞ্চোর (আমির) সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন পিয়া (কারিনা কাপুর)। সিক্যুয়েলের গল্প সেখান থেকেই শুরু হচ্ছে কি না, তা নিয়ে দর্শক মহলে জল্পনা থাকলেও, এটি নিশ্চিত যে নতুন অ্যাডভেঞ্চারের মুখোমুখি হবে তিন বন্ধু। এর সঙ্গে রাজকুমার হিরানি স্পেশাল কৌতুকরসও থাকছে ছবিতে। আসন্ন এই সিক্যুয়েলকে আলোর মুখ দেখাতে আমির খানের সঙ্গে দাদাসাহেব ফালকের বায়োপিকের কাজও স্থগিত রেখেছেন পরিচালক রাজকুমার হিরানি। জানা যায়, তিনি অনেক আগেই সিক্যুয়েলের প্ল্যান করলেও সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান। জানা গেছে, আগামী ২০২৬ সালেই পর্দায় ফিরতে চলেছেন আমির-কারিনা, শরমন-মাধবনের পুরো দল।
ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাশার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাইবার বুলিং এবং প্রতিবাদের সংস্কৃতি নিয়ে নিজের হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, হাতে গোনা কয়েকজনের প্রতিবাদে আসলে সমাজের বড় অংশের সমর্থন না থাকলে তা কার্যকর হয় না। যখন ব্যক্তিগত জীবনে কোনো চরম সংকট না আসে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা প্রতিবাদী হতে চাই না। বাশারের ভাষ্যমতে, ‘যারা প্রতিবাদ করছেন, সেটা দেখে আমরা প্রভাবিত হচ্ছি কিনা, তাদের সাথে আমরা সুন্দর মেলালাম কিনা, তাদের সাথে আমরা একমত হচ্ছি কিনা হয়তো যারা প্রতিবাদ করছেন। আমরা দেখে বলছি 'হ্যাঁ, উনি প্রতিবাদ করছেন', কিন্তু আমরা প্রতিবাদী হচ্ছি না।’ ‘তো এই তিনজন বা চারজন প্রতিবাদ করলেই আসলে প্রতিবাদ হয় না। সেটাকে আমরা সমর্থন করছি কিনা, সেটার গুরুত্ব আমরা বুঝতে পারছি কিনা এবং তাদের সাথে আমরা দাঁড়াচ্ছি কিনা, আমরা তাদের হয়ে কথা বলছি কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ। ’ তার কথায়, ‘আমার দাদু একটা কথা বলতো যে 'বেনি পুড়তে পুড়তে যখন আগুনটা আইসা লাগে, তারপরে আমরা কথা বলি'। এছাড়া বেনি পুড়তে থাকুক এরকম হয় আরকি আমাদের ক্ষেত্রে।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের দেশে তো নিউট্রালি ওইটাকে হিসাব করা হয় না যে সে যে কথাটা বলে সেটা সত্য কিনা। তার উপর আসলে নির্যাতনটা হচ্ছে কিনা, তার উপর আঘাতটা হচ্ছে কিনা, তার উপর অন্যায়টা হচ্ছে কিনা। সো সে যেহেতু তার উপর অন্যায় হচ্ছে সেটা বলছে তো এটাকে গুরুত্ব দেয়া উচিত, সেটা না।’
চার সপ্তাহের থাইল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরেছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন তানজিয়া জামান মিথিলা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিমানবন্দর থেকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দেশের মানুষ ও বিনোদন অঙ্গনের সকল সমর্থককে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তানজিয়া মিথিলা ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে থাইল্যান্ড যান। ২ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ক্যাম্প রাউন্ডে তিনি সেরা ৩০-এর মধ্যে স্থান করে নেন। যদিও মুকুট জিততে পারেননি, তবু দেশের প্রতিনিধিত্বে সাফল্য পেয়েছেন বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। মিথিলা বলেন, প্রথম ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে ঠিকভাবে উপস্থাপন করা। বাংলাদেশের পতাকা বহন করেছি। এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে যত কষ্ট ও পরিশ্রম প্রয়োজন, তা আমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত করেছি। প্রথম সারির তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সবাই আমার প্রতি যে বিশ্বাস ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা আমাকে অভিভূত করেছে। বিমানবন্দরে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের হয়ে যতটা সম্ভব অবস্থান করা চেষ্টা করেছি। এই প্রতিযোগিতা আমাদের আরও প্রস্তুতি দরকার, যাতে ভবিষ্যতের প্রতিযোগীরা সহজে এই প্ল্যাটফর্মে এগোতে পারে। আমরা আশা করছি, পরবর্তী প্রতিযোগীরা আমাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা পাবেন। মিথিলার কথায়, এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সহজ নয়। অনেক দেশ ৫০–৬০ বছর চেষ্টা করেও সাফল্য পায়নি। তবে আমাদের দেশের মানুষ ও সরকারি সহযোগিতা থাকলে সম্ভব। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তারা আসলে বাংলাদেশকে ভোট দিয়েছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে যাইনি, বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরতে গিয়েছি। ‘ফার ক্রাই’ এবার লাইভ-অ্যাকশন সিরিজে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপের মধ্যে ক্লোজডোর ইন্টারভিউ, ইভিনিং গাউন, ন্যাশনাল কস্টিউম ও সুইমস্যুট ওয়্যার গুরুত্বপূর্ণ। বিকিনি পরার বিতর্ক প্রসঙ্গে মিথিলা জানান, সুইমস্যুটওয়্যার ছাড়া সেরা ৩০-এ পৌঁছানো সম্ভব হতো না। আমি আমার দেশকে ছোট করিনি। এদিকে, মিস ইউনিভার্স ২০২৫ প্রতিযোগিতা নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। মেক্সিকোর ফাতিমা বশকে আয়োজক কর্তৃপক্ষের কাছে ‘অপমানিত’ করা হয়েছিল, যা প্রতিযোগীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ২৫ বছর বয়সী ফাতিমা বশ মুকুট জিতেছেন।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের বিরুদ্ধে আদালতে শুনানিতে তার সাবেক স্ত্রী রিয়া মনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘হিরো আলম মিডিয়া ডেকে সাইবার বুলিং করে যাচ্ছে। আমি নাকি বাজে মেয়ে, কলগার্ল। আমি নাকি দেহ ব্যবসা করি। আমার তো বাঁচার অধিকার আছে নাকি।’ এরপর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন রিয়া। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শুনানিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাকিবুল হাসানের আদালতে তিনি এসব কথা বলেন। রিয়া মনি আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার (হিরো আলম) ৪ বছরের সংসার। তাও আমার বিরুদ্ধে এসব নোংরা কথা বলে যাচ্ছে। সে খেলা চলবে বলেও আমাকে হুমকি দিয়েছে। আমি সাইবার বুলিং থেকে বাঁচতে চাই।’ এ সময় রিয়া মনিকে হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে রাজধানীর হাতিরঝিল থানার মামলায় বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে গ্রেফতার করে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এরপর চলতে থাকে দুই পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিরো আলমের পক্ষের আইনজীবী শান্তা সাছসিনা, রিপনসহ আরও অনেকেই তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। বাদীপক্ষ জিয়াউর রহমান, অভিজিৎ মজুমদার এই জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘দুইজনই সেলিব্রেটি। দুইজনই সাইবার বুলিং করেন। আমরা শান্তি চাই, মীমাংসা চাই। আসামি জামিন পেলে, আর এ বিষয়ে কিছু বলবে না। আমরা বন্ড দিতে রাজি। তবুও সমাধান চাই।’ শুনানি শেষে আদালত হিরো আলমকে ২০০ টাকা বন্ডে জামিন মঞ্জুর করেন। পরে ৬টা ৩৫ মিনিটে হাজতখানা থেকে হিরো আলম কারামুক্ত হয়ে মোটরসাইকেলযোগে চলে যান।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এরপর ৩০০ ফুটের জুলাই-৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে গণসংবর্ধনায় লাখ লাখ কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তৃতা করেন। লাখো সমর্থকের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রয়টার্স, এএফপি, নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম। অধিকাংশ গণমাধ্যমে তাঁকে ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গণমাধ্যমে তাঁর দেশে ফেরার খবর নিচে তুলে ধরা হলো। রয়টার্স বার্তা সংস্থা রয়টার্সের শিরোনাম—‘নির্বাচনের আগে নির্বাসন থেকে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী’। খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে, এমন প্রত্যাশা দলটির। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করা হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত পথে লাখ লাখ সমর্থককে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে দলীয় পতাকা নাড়াতে দেখা যায়। তাঁরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফুল হাতে নিয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে। খালেদা জিয়া বর্তমানে অসুস্থ। তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করছেন। ২০১৮ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে জুতা খুলে খালি পায়ে দেশের মাটিতে পা রাখেন এবং একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন। এরপর সংবর্ধনাস্থলে যাওয়ার সময় তাঁকে বহনকারী বাসে চালকের আসনের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তিনি হাসিমুখে হাত নেড়ে মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন। ভিড়ের মধ্যেও নেতাকে একনজর দেখার জন্য উম্মুখ হয়ে ওঠেন সমর্থকেরা। এএফপি বার্তা সংস্থা এএফপির শিরোনাম—‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে পৌঁছেছেন’। খবরে বলা হয়েছে, ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বিপুলসংখ্যক উচ্ছ্বসিত সমর্থকের সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ফিরেছেন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা তারেক রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং বিএনপির উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত তারেক রহমান ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণের পর দলের নেতাদের সঙ্গে হাত মেলান। এ সময় তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে সঙ্গে ছিলেন। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই বিএনপির সমর্থকেরা রাজধানী ঢাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। তারেক রহমানের ছবিসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুনে সড়কগুলো ভরে ওঠে। এ সময় লাউডস্পিকারে দেশাত্ববোধক গান বাজানো হয়। বিবিসি যুক্তরাজ্যের প্রভাশালী সংবাদমাধ্যম বিবিসির শিরোনাম—‘১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী’। খবরে বলা হয়েছে, ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে থাকা তারেক রহমান। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে চায় বিএনপি। ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করা তারেক রহমান দেশের নতুন নেতা হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। আল-জাজিরা আল-জাজিরার শিরোনাম—‘বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন’। খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকা পরিবারের উত্তরাধিকারী এবং দেশের প্রভাবশালী বিরোধী দলের নেতা তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন। ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী। ২০০৮ সালে দেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি লন্ডনে ছিলেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর নিপীড়ন চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি। আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানকে শীর্ষ প্রতিযোগী হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুতির পর তিনি দেশে ফেরায় বিএনপিতে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম—‘১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তন’। খবরে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দীদের একজন তারেক রহমান বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরেছেন। তিনি প্রায় দুই দশক ধরে নির্বাসনে ছিলেন। দেশে তাঁকে একাধিক মামলা মোকাবিলা করতে হয়েছিল। পুরোদমে নির্বাচনী মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে তিনি দেশে ফিরলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন হয়ে গেছে। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একসময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা করেছিলেন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছেন। এখন তিনিই ভারতে নির্বাসনে আছেন। গত বছর তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তাঁর দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দ্য হিন্দু ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য হিন্দুর শিরোনাম—‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকায় অবতরণ’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে ঢাকায় ফিরেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭ বছর পর এমন এক সময় তারেক রহমান বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন, যখন নতুন ধরনের অশান্তি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশকে গ্রাস করেছে। জনপ্রিয় তরুণ নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে বাংলাদেশে সহিংস প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে। এতে আরও বলা হয়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান। এ সময় স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ডন পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডনের শিরোনাম—‘১৭ বছর নির্বাসনের পর নির্বাচনের আগে দেশে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরেছেন। দলটির আশা, তাঁর এই প্রত্যাবর্তন সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। এনডিটিভি ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির শিরোনাম—‘খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরেছেন’। খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন। ঢাকার বিমানবন্দরে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে স্বাগত জানান বিএনপির হাজার হাজার সমর্থক। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে বিএনপির সমর্থক ও দলের নেতা-কর্মীরা বনানী-বিমানবন্দর সড়ক ধরে পায়ে হেঁটে ঢাকার বিমানবন্দরের দিকে যান। এর আগে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার সময় তারেক রহমান, স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে রাজধানীতে ৫০ লাখের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার পর এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা বিভাগীয় প্রধান এবং এনসিপি শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও মোতালেব শিকদারকে মাথায় গুলি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এদিন দুপুরে সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি বলেন, এনসিপির খুলনা বিভাগীয় প্রধান এবং এনসিপি শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও মোতালেব শিকদারকে একটু আগে গুলি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদির মৃত্যু হয়। পরে তাকে দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় মসজিদের পাশে (জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে) দাফন করা হয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘দেশের ৫০ ভাগ নারী। তাঁদের ছাড়া যদি আমরা চিন্তা করি দেশ এবং জাতি উন্নয়নের শিখরে উঠে যাবে, তাহলে সেটা ভুল হবে। সে জন্য আমরা উত্তরোত্তর চেষ্টা করব, আমাদের যাঁরা নারী, তাঁদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুন্দরভাবে গড়ে উঠতে পারে।’ আজ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ক্যাডেটদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান এ মন্তব্য করেন। দেশ ও জাতিগঠনে নারীরা কাজ করে যাবেন বলেও অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের তিন দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে শুক্রবার ছিল দ্বিতীয় দিন। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান প্যারেড সালাম গ্রহণ করেন। পরে বক্তব্যে তিনি প্যারেডে অংশগ্রহণকারী ক্যাডেট ও প্রাক্তন ক্যাডেটদের সফলতা ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আমরা অনেকেই শিক্ষিত হই, সুশিক্ষিত হই না। ভালো ভালো রেজাল্ট করি, ভালো জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হই। ইউনিভার্সিটিতে ভালো করি, পিএইচডি করি, বড় বড় জেনারেল হয়ে যাই, সেক্রেটারি হই। রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আমরা চলে যাই। কিন্তু কারও কারও মধ্যে নৈতিকতার অভাবের কারণে আমরা খুব একটা ভালো কাজ করতে পারি না।’ সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘নৈতিকতা হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খালি ভদ্র-ভালো ছাত্র, রেজাল্টে ভালো হলেই হবে না, আমাদের সবাইকে ভালো মানুষ হতে হবে। সেই উদ্দেশ্যেই এই ক্যাডেট কলেজ কাজ করে যাচ্ছে। সততা, নৈতিকতার শিক্ষা আমরা দিয়ে চলেছি। যার বড় একটা উদাহরণ আমি দেখতে পাচ্ছি এখানে বিশালসংখ্যক এক্স ক্যাডেট আছেন, যাঁরা সমাজের বিভিন্ন জায়গায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।’ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আরিফুল হক, জয়পুরহাট প্রাক্তন ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মৌসুমী শিখা বক্তব্য দেন। এতে সেনাবাহিনীর ১১ পদাতিক ডিভিশন ও বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল তৌহিদুল আহাম্মেদ, সেনা পরিবার কল্যাণ সমিতির পৃষ্ঠপোষক সারাহনাজ কমলিকা জামান, জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আবদুল ওয়াহাবসহ জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছিলেন এক নারী। এক তরুণীর লাঠি দিয়ে মধ্যবয়সী ওই নারীকে পেটানোর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। মারধরের শিকার ওই নারীকে আজ শুক্রবার গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। ধানমন্ডি থানা–পুলিশ আজ বিকেলে সালমা ইসলাম নামের এই নারীকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সালমা ইসলামের আইনজীবী আবুল হোসেন পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন তাঁর মক্কেলকে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। অপর দিকে তাঁরা জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আইনজীবীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪২ বছর বয়সী সালমা ইসলাম আজিমপুরে বসবাস করেন। তিনি একজন গৃহিণী। গতকাল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে হামলার শিকার হন তিনি। সালমা ইসলামকে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার পর ওনাকে মারধর করা হয়। সেখান থেকে কয়েকজন তাঁকে আমাদের হাতে সোপর্দ করে।’ সালমা ইসলামকে গত বছরের ১৯ জুলাই সরকারবিরোধী আন্দোলন চলার মধ্যে ধানমন্ডিতে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। গতকাল ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে ওই নারীকে পেটানোর ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া গত বছরের ১ ডিসেম্বর হওয়া ওই মামলার ঘটনা সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া আবেদনে বলেছেন, এ মামলার বাদী ইউরোপিয়ান ইউনির্ভাসিটির বিবিএ তৃতীয় বর্ষের একজন ছাত্র। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলা অবস্থায় শুরু থেকে বাদী আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে বাদী ও আরও অনেকে ধানমন্ডির স্টার কাবাবের সামনে মিছিল করছিলেন। এ সময় কতিপয় আসামিদের নির্দেশে অন্য আসামিরা আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ–সহযোগী ও ১৪–দলীয় জোটের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, কাটা রাইফেল, পিস্তল, দেশি রামদা, চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল, রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সুসজ্জিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের তাঁদের ন্যায্য দাবি থেকে উৎখাত করার লক্ষ্যে অনবরত গুলিবর্ষণ করতে থাকে। একটি গুলি বাদীর পিঠে লেগে পেট দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নেন। মামলা করার সময় আসামির তালিকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এ মামলা হওয়ার পর এর তদন্তভার গ্রহণ করেন উল্লেখ করে সালমা ইসলামকে নিয়ে আদালতে দেওয়া আবেদনে এসআই আনোয়ার লিখেছেন, ‘অত্র মামলাটির তদন্তকালে তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণে অত্র মামলার ঘটনার সহিত উপরিউক্ত গ্রেপ্তারকৃত আসামি জড়িত মর্মে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়।’ তদন্ত কর্মকর্তার এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন সালমা ইসলামের আইনজীবী আবুল হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘উনি (সালমা ইসলাম) আবেগের বশে গতকাল দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় “জয় বাংলা” স্লোগান দেন। সেখানে ওনার ওপর মব সৃষ্টি করে মারধর করা হয়। ভুক্তভোগী হওয়ার পরও ওনাকে আজ আদালতে আনা হয়েছে। জুলাইয়ের হত্যাচেষ্টা মামলা দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায় হয়েছে। যে অপরাধ উনি করেননি, সে মামলায় ওনাকে আসামি করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।’ সালমা ইসলামকে কেন এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো, সে প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন স্যারদের নির্দেশে ওনাকে এ মামলায় গ্রেপ্তর দেখানো হয়েছে। এ মামলায় ওনার সম্পৃক্ততার ব্যাপারে কয়েকজন সাক্ষ্য দিয়েছে। তাদের সাক্ষ্যের আলোকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’ যাঁরা সালমা ইসলামকে আপনার হাতে তুলে দিয়েছেন, তাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছেন কি না, সে প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘তাঁরা ছাড়াও অন্য সাক্ষীরা বলেছেন।’
দেশের অপমানের বিষয়ও জড়িত, ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিয়ে আইসিসিকে তোপ বাংলাদেশের
৩ রাশির অর্থভাগ্য ঘোরাতে চলেছে শুক্র ও মঙ্গল, ১৬ জানুয়ারিই শুরু খেলা; আপনার কথাবার্তায় আকর্ষিত হবে মানুষ
ব্যাটে বলে নায়ক বৈভব, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩-০ উড়িয়ে ওয়ান ডে সিরিজ জিতল ভারত
বাংলাদেশে হিন্দু নারীর ওপর অত্যাচার! মর্মাহত শিখর ধবন সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন
মিথ্যে বলছে বাংলাদেশ! চাঞ্চল্যকর বিবৃতি ভারতীয় সঞ্চালিকার, BPL থেকে সরে দাঁড়িয়ে জিতে নিলেন মন
হারিয়ে গেল আরও এক ছোটবেলার সাক্ষী! চিরকালের মতো বন্ধ হয়ে গেল 'ডোরেমন'-এর সম্প্রচার
বিয়ের বয়স মাত্র ৩ মাস, এর মধ্যেই মা হচ্ছেন 'বালিকা বধূ' অভিকা গৌর?
'সরকার থেকে লাগানো হয়েছে', নোনাডাঙায় বিধ্বংসী আগুন নিয়ে অভিযোগ স্থানীয়ের; কান্নায় ভাঙলেন অনেকে